‘ভারতীয় বোর্ড আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে’
মেলবোর্ন,৬ মে- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার। তার দাবি, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- ভারতের বিহার রাজ্যের রাজনীতিতে আবারও নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে ‘ভোটকুশলী’ প্রশান্ত কিশোরের (পি. কে.) সক্রিয় ভূমিকা, যা ইতিমধ্যেই বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রশান্ত কিশোরের তৃণমূলভিত্তিক তৎপরতা রাজ্যের ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিজেপি।
প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে গঠিত সংগঠন ‘জন সুরাজ অভিযান’ বিহারের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক জনসংযোগ ও গ্রামভিত্তিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের জনগণ “বদল চায়, বিকল্প চায়” — এবং তিনি সেই বিকল্প রাজনীতির নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
গত কয়েক মাস ধরে তিনি মুজফ্ফরপুর, পূর্ণিয়া, গয়া ও ভাগলপুরসহ অন্তত ২৫টি জেলায় ঘুরে জনসভা করেছেন। প্রতিটি সভায় তিনি বর্তমান রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, প্রশান্ত কিশোরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে, তরুণ ভোটার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
একজন বিজেপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পি. কে. এখন আর শুধু পরামর্শদাতা নন, তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক ব্র্যান্ড। তার মাটির সংযোগ আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা প্রশান্ত কিশোর ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জগন মোহন রেড্ডি, অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ একাধিক নেতার নির্বাচনী সাফল্যে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
তবে এবার তিনি পরামর্শকের ভূমিকায় নয়, বরং নিজেই রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় নেতৃত্বের ভূমিকায় আসছেন। প্রশান্ত কিশোর বলেছেন,
“বিহারের রাজনীতি কেবল জাতপাত ও ধর্মের ওপর নির্ভর করে এগোতে পারে না। এখন সময় এসেছে উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক রাজনীতির।”
রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কংগ্রেস নেতারাও প্রশান্ত কিশোরের উত্থানকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। আরজেডির এক নেতা বলেন, “তিনি বিজেপির ভোটে ভাগ বসাতে পারেন, কিন্তু তার আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কাকে শক্তিশালী করবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।”
অন্যদিকে, বিজেপির মিত্র জনতা দল (ইউনাইটেড) এখনো তার বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে, তবে অভ্যন্তরে উদ্বেগ বাড়ছে যে প্রশান্ত কিশোরের আন্দোলন ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ ঢেউকে তীব্রতর করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অজয় কুমার বলেন, “প্রশান্ত কিশোরের হাতে সংগঠন, জনপ্রিয়তা ও প্রচারণা দক্ষতা—সবই আছে। তিনি যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তবে বিহারের রাজনীতি ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকে যেতে পারে।”
বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ‘ভোটকুশলী’ প্রশান্ত কিশোরের প্রত্যাবর্তন ততই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
বিজেপির কৌশলবিদরা এখন ভাবছেন, কীভাবে পি. কে.-এর প্রভাবকে সীমিত করা যায়—কারণ তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন আন্দোলন রাজ্যের ভোটের সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au