ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানী ওমর এম ইয়াঘি
। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
মেলবোর্ন,১০ অক্টোবর- জর্ডানের এক শরণার্থীশিবিরে জন্ম ও শৈশব কাটানো ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ওমর এম ইয়াঘি এ বছরের রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। বুধবার নোবেল কমিটি রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
‘ধাতব-জৈব কাঠামো (Metal-Organic Framework)’ নামে নতুন ধরনের আণবিক কাঠামো আবিষ্কারের জন্য ওমর এম ইয়াঘি আরও দুই বিজ্ঞানী—সুসুমু কিতাগাওয়া ও রিচার্ড রবসনের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কার পান।
জর্ডানের রাজধানী আম্মানে একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবিরে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন ইয়াঘি। তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
শৈশবের কষ্টের দিনগুলো স্মরণ করে তিনি বলেন,“আমি খুব সাধারণ একটি বাড়িতে বড় হয়েছি। একটি ছোট কক্ষে আমরা অনেকজন থাকতাম। আমাদের গবাদিপশুগুলোকেও সেই ঘরেই রাখতে হতো। আমার মা–বাবা শিক্ষিত ছিলেন না, কিন্তু তারা আমাকে শেখার সুযোগ দিয়েছিলেন।”
ইয়াঘি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
নোবেলজয়ের পর নোবেল প্রাইজ আউটরিচের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অ্যাডাম স্মিথকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াঘি বলেন, “এটা দীর্ঘ এক যাত্রা। বিজ্ঞান আপনাকে সেই সুযোগ করে দেয়। পৃথিবীতে যেসব ক্ষেত্র সবাইকে সমানভাবে সুযোগ দেয়, তার মধ্যে বিজ্ঞান অন্যতম।”
তিনি আরও বলেন,“সব জায়গায় বুদ্ধিমান ও প্রতিভাবান মানুষ আছেন। তাদের সম্ভাবনা বিকাশের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।”
স্মিথের মতে, ৬০ বছর বয়সী ইয়াঘি সম্ভবত জর্ডানে জন্ম নেওয়া প্রথম নোবেল বিজয়ী।
ইয়াঘির নোবেলজয়ের খবর প্রকাশের পর জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি লেখেন, “জর্ডানের বিজ্ঞানী অধ্যাপক ওমর ইয়াঘি ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জেতায় আমরা গর্বিত। তাঁর এ অর্জন জর্ডানের জন্য এক বিশাল সম্মান।”
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মোহাম্মদ শেহাদ এক্সে লিখেছেন, ইয়াঘির সাফল্য এক প্রতীকী বিজয় —“যে মানুষটি শরণার্থীশিবিরে ভয়াবহ পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন, তিনি আজ বিশ্ববিজ্ঞানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছেন।”
তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যখন ইসরায়েল গাজায় শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের হত্যা করছে, ঠিক সেই সময় এক ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানীর নোবেল জয় আমাদের জন্য আশার আলো।”
নিজের কাজের বিষয়ে ইয়াঘি বলেন,“আমি সুন্দর জিনিস তৈরি করতে চাই, এবং বুদ্ধিদীপ্ত সমস্যার সমাধান করতে চাই। এটাই আমার কাজের প্রেরণা।”
ওমর এম ইয়াঘির নোবেল জয় শুধু একজন বিজ্ঞানীর সাফল্য নয়, বরং এটি শরণার্থী জীবন থেকে উঠে আসা প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অর্জন ফিলিস্তিনি জনগণ এবং পুরো আরব বিশ্বের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।