মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- টেনশানপূর্ণ দুই বছরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য জীবিত ও অস্থায়ী আশ্রয়হীন ফিলিস্তিনি উত্তর গাজার দিকে ফিরে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিরতির প্রথম দিনের মধ্যে কয়েক হাজার – এমনকি কিছু খাতে দশ হাজারেরও বেশি,মানুষ তাদের ভাঙচুর হওয়া বাড়ি, পাড়া ও শহর দেখার জন্য দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাত্রা শুরু করেছেন।
স্থানীয় পরিস্থিতি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী মানুষেরা তালাবদ্ধ ট্রেন বা গাড়ি না পেয়ে আগের পরের মতো পায়ে বা ভিড় করে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে উত্তর গাজার দিকে হেঁটে যাচ্ছেন; অনেকেই ঘর পরিদর্শন করে আবার পরিবারকে তুলতে পুনরায় দক্ষিণে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মাটির ধ্বংসস্তুপ, ভাঙাচোড়া রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ–জলবিচ্ছিন্নতার কারণে জীবনযাত্রা প্রায় অসম্ভব হলেও মানুষের প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে মধ্যস্থতা মিশিগত চুক্তির অংশ হিসেবে-ইলাকার কিছু অংশে ইসরায়েলী বাহিনীকে নির্দিষ্ট মোতায়েন সীমায় সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এতে উন্মুক্ত হওয়া সড়ক ও উদ্যোগের ফলে মানবিক সহায়তা প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে যে বিরতিটি পর্যায়ক্রমিক এবং তাতে বন্দীদলের বিনিময় ও ত্রাণ সরবরাহ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংগঠিত ত্রাণকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, যদিও রাস্তা খোলা শুরু হয়েছে এবং সহায়তা পৌঁছানো শুরু হচ্ছে, কিন্তু গণসংখ্যালঘু এলাকা পুনরায় বাসযোগ্য নয় , বহু বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং হাসপাতাল ও পানীয়জল-সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। জাতিসংঘ ও বৃহৎ ত্রাণ সংস্থাগুলো দ্রুত শতশত কনটেইনার ও টন খাদ্য, ঔষধ ও আশ্রয় সামগ্রী আনতে প্রস্তুত রেখেছেন; কিন্তু নিরাপত্তা, লজিস্টিক ও পুনর্বিন্যাস সাইন্যালিংয়ের ওপর সবকিছুই নির্ভর করবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে আশ্রয়শীলা ও পুনর্বাসন ছাড়া মানুষের দ্রুত প্রত্যাবর্তন আবারেকটি মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে – বিশেষত শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য। শহরগুলোতে পরিচ্ছন্ন পানীয়জল, স্বাস্থ্যসেবা ও ছাদের তড়িতায়রতা ছাড়া ফের পল্লীকেন্দ্রে কষ্ট মাত্রা বেড়ে যাবে। ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত না করা পর্যন্ত প্রাথমিক জরুরি সেবা বজায় রাখা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে বলে তদন্তকারীরা বলছেন।
বিরতিটি একটি দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনার অংশ; সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারী দেশ ও সংস্থা চূড়ান্ত বন্দী-হস্তান্তর, নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুততর করতে প্রবল চাপে আছে। বিরতির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা