মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- উত্তর কোরিয়ার শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির নেতা কিম জং উন শুক্রবার রাতে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে নতুন হাইপারসনিক গ্লাইড যান ও আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) প্রদর্শন করেছেন। খবর সিএনএনের।
কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল ‘হোয়াসং-১১এমএ’ হাইপারসনিক অস্ত্র এবং ‘হোয়াসং-২০’ আইসিবিএম। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এগুলোকে দেশের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই প্রদর্শনী এসেছে এমন এক সময়, যখন কিম জং উন সম্প্রতি কূটনৈতিকভাবে বড় এক সাফল্য অর্জন করেছেন। গত মাসে তিনি বেইজিং সফরে গিয়ে বিশাল চীনা সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন এবং সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে দাঁড়ানোর বিরল সুযোগ পান।
বেইজিং সফরের পর কিম চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেন এবং নতুন উদ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এর পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নতুন বা উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার খবর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াসং-১১এমএ, একটি চালনাযোগ্য হাইপারসনিক ওয়ারহেড, এবং হোয়াসং-২০ ক্ষেপণাস্ত্র।
হোয়াসং-১১এমএ এক সপ্তাহ আগে পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এক সামরিক প্রদর্শনীতে প্রথম দেখা যায়। হোয়াসং-১১ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাশিয়ার ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসআরবিএম), যা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
উত্তর কোরিয়ার নতুন ১১এমএ মডেলটি এমন এক ‘বুস্ট-গ্লাইড যান’ ওয়ারহেড দিয়ে সজ্জিত, যা লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার সময় অনিয়মিত পথ অনুসরণ করে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সেটি শনাক্ত করা বা আটকানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এই প্রযুক্তির কারণে এটি ‘হাইপারসনিক’ নামে পরিচিত— কারণ এটি শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে চলতে সক্ষম।