মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই আবারও দেখা দিয়েছে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে অনিশ্চয়তা। এখনো মাধ্যমিক স্তরের বহু বই ছাপানোর দরপত্র চূড়ান্ত হয়নি, যা বই বিতরণে বড় ধরনের দেরি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ২৮০টি বইয়ের লটের মধ্যে বহু লটের দরপত্র এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির নতুন শিক্ষাক্রমের বইগুলোর দরপত্র প্রক্রিয়াই সবচেয়ে পিছিয়ে। ফলে বই ছাপা ও বিতরণে সময়ের চাপ বাড়ছে।
প্রতিবছরের মতো আগামী ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের বই তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশনা শিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখনো ছাপাখানায় বই ছাপার কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই বিতরণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
একজন মুদ্রণ উদ্যোক্তা বলেন, “এখনই যদি দরপত্রের কাজ শেষ না হয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে বই ছাপা শেষ করা সম্ভব নয়। এতে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতে বই ছাড়াই পড়াশোনা শুরু করবে।”
তড়িঘড়ি করে বই ছাপাতে গিয়ে গুণগত মানেও অবনতি ঘটতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় নিম্নমানের কাগজ ও মুদ্রণ ব্যবহারের কারণে বই দ্রুত নষ্ট হয়, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তবে এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যেন নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া যায়। একজন কর্মকর্তা বলেন, “বই ছাপা ও বিতরণের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সময়মতো বই পৌঁছাতে আমরা দিনরাত কাজ করছি।”
প্রতি বছর সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৩৫ কোটির বেশি বই বিনা মূল্যে বিতরণ করে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই এই বিতরণে দেরি দেখা দিচ্ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো দরপত্র সম্পন্ন ও ছাপাখানায় মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হলে বই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ফলে দেশের কোটি শিক্ষার্থীর পাঠদান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।