মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন করে বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে মসায়লে গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি যানবাহন ও একটি ভারী যন্ত্রপাতি বিক্রির স্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হামলার কারণে বৈরুতের সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের সংযোগ সড়কও বন্ধ হয়ে গেছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে—তিনি একজন সিরিয়ান নাগরিক। আহতদের মধ্যে একজন সিরিয়ান ও ছয়জন লেবানিজ নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন নারী।
হিজবুল্লাহর আল-মানার টিভি জানিয়েছে, হামলার সময় একটি সবজি বহনকারী গাড়ি ওই স্থানে যাচ্ছিল। ইসরায়েলি বিমান ওই গাড়িটিতে সরাসরি আঘাত হানে, ফলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা “হিজবুল্লাহর অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতির গুদামঘরে” হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, ওই স্থানে “সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছিল।”
অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক স্থাপনাগুলো আবারও ইসরায়েলের নির্মম আগ্রাসনের শিকার হলো, যার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।”
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলের এই হামলাকে “গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে সেই সময় থেকেই ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল দাবি করছে, হিজবুল্লাহ আবারও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভোলকার তুর্ক এ মাসের শুরুতে লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লেবাননে চলমান সংঘাতে ১০৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশটিতে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন ১২৭ জন, যাদের মধ্যে ৮০ জন সেনা সদস্য। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে রকেট নিক্ষেপ শুরু করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর একদিন পর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে বড় আকারের হামলার মাধ্যমে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে দুই ফ্রন্টে ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখে, যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।
সূত্র: আল জাজিরা