অভিনেতা শামস সুমনের মৃত্যু, নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- দেশের অভিনয় অঙ্গনের পরিচিত মুখ শামস সুমন আর নেই। বিশিষ্ট এই অভিনেতা ও রেডিও ভূমি-র স্টেশন চিফের মৃত্যুতে (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)…
মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, “এখন সেফ এক্সিট নিয়ে কথা হচ্ছে। আমরা উপদেষ্টারা নিশ্চিতভাবে জানি, আমাদের কারও কোনো সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই।”
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত “খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫” শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভাটি আয়োজন করে আইন মন্ত্রণালয়।
আসিফ নজরুল বলেন, “বাংলাদেশ জাতি হিসেবে সেফ এক্সিটের প্রয়োজন আছে। গত ৫৫ বছর ধরে আমরা দুঃশাসন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখেছি। এই ভয়াবহ রাষ্ট্রকাঠামো থেকে মুক্তিই আমাদের জন্য প্রকৃত সেফ এক্সিট।”
আইন প্রণয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা হয়তো অনেক ভালো আইন করছি, কিন্তু ভালো আইন মানেই দেশ ভালো হয়ে যাবে এমনটা নয়। এখন এতটা সরলভাবে আশা করার বয়স আমার নেই।”
প্রতিষ্ঠান গঠনে ব্যর্থতার দিকটিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “বাহাত্তরের সংবিধানে যেমন সমালোচনার জায়গা আছে, তেমনি ভালো কিছু দিকও ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। কিন্তু বাস্তবে কখনোই তা হয়নি। সব সময়ই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই তা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে এমন প্রধান বিচারপতিও ছিলেন, যাঁরা মানবাধিকার ধ্বংসে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ধরনের কিছু বিচারপতি এখনো রয়ে গেছেন এবং তারা এখন সরকারের সংস্কারের কাজে যুক্ত।”
আসিফ নজরুল বলেন, “ভালো আইন একটি ফাউন্ডেশন, কিন্তু তার ওপর যদি খারাপ ভবন তোলা হয়, তাহলে লাভ নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালো হতে হবে। সরকারের ভেতর এসে দেখেছি, এখানে সবকিছুই ব্যক্তিকেন্দ্রিক, প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক নয়।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন, তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছেন।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় উপদেষ্টারাও একে একে অবস্থান জানান।
৮ অক্টোবর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “উপদেষ্টাদের মধ্যে কারা সেফ এক্সিট নিতে চান, সেটা নাহিদ ইসলামকেই পরিষ্কার করতে হবে।”
৯ অক্টোবর ফেসবুকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান লেখেন, “বাহাত্তরোর্ধ্ব বছর বয়সে যদি সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয়, তা আমার জন্য গভীর দুঃখের বিষয় হবে।”
আজ সেই ধারাবাহিকতায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বিষয়টি নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au