রোববার সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘লাগাতার অবস্থান’ কর্মসূচি শুরু করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- সরকার ঘোষিত বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধিকে ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা এবং চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার দাবিতে তারা আজ রোববার সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘লাগাতার অবস্থান’ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী। তারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হলে আগামী মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করা হবে।
জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বেলা পৌনে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছি। মঙ্গলবার থেকে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি শুরু হবে। মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসাভাতা ১,৫০০ টাকায় উন্নীত করা এবং উৎসবভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে না বাড়ানো পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।”
জোটের নেতারা বলেন, সরকারের প্রজ্ঞাপনে প্রস্তাবিত ভাতার হার শিক্ষকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে সরকার যে ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা বাড়িয়েছে, তা “প্রহসনমূলক” বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। তিনি বলেন, “বর্তমান বাজারদরে এই টাকায় একদিনের বাজারও হয় না। আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি।”
এর আগে ১৩ আগস্ট প্রেস ক্লাবের সামনে থেকেই এই সংগঠন বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন বদলি চালুর দাবি জানায়। পরবর্তীতে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি, বিভাগীয় শহরে শিক্ষক সম্মেলন এবং ১২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই লাগাতার আন্দোলনে নামছেন।