মেলবোর্ন, ১৩ অক্টোবর- ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে গাজার মধ্যে যে ব্যাপক আকারের নীচের সুড়ঙ্গ (টানেল) জাল তৈরি ছিল তা “জিম্মিরা মুক্ত হওয়ার পরপরই” ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাট্স (Israel Katz) বলেন, জিম্মি উদ্ধারের পর গাজাকে “ডেমিলিটারাইজ” করা এবং হামাসের সামরিক ক্ষমতা নষ্ট করাই প্রধান লক্ষ্য, যার একটি অংশ হবে টানেলগুলো ধ্বংস করা।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ধ্বংসকাজ সরাসরি ইসরায়েলি রক্ষা বাহিনী (IDF) পরিচালনা করবে এবং এতে একটি “আন্তর্জাতিক মেকানিজম” থাকতে পারে-যার তত্ত্বাবধান যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে করা হবে বলে বলা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এটিকে আগের অভিযানগুলোর বাকি অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, কারণ পূর্ববর্তী সংঘর্ষে টানেল নেটওয়ার্কের কেবল অংশই নিরপেক্ষ করা গিয়েছিল।
গাজায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলমান সংঘর্ষের পর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যে ৭২-৮৪ ঘণ্টার (তথ্যসূত্রভিত্তিক প্রথম ধাপ) জরুরি বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে-সে প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতায় এই ঘোষণা এসেছে; জিম্মি মুক্তির পদ্ধতি ও পরে পাল্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম বাড়ানো ও বসতি ফিরিয়ে আনাই চুক্তির অন্য প্রধান অঙ্গ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, টানেল ধ্বংস কার্যক্রম বাস্তবায়ন খুবই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ-এতে পুনরায় উত্তেজনা বাড়ার আশংকা রয়েছে এবং এটি বাস্তবে কিভাবে হবে, তার উপর বড় করে আন্তর্জাতিক মনিটরিং বা নিয়ন্ত্রণ কীভাবে কাজ করবে তা স্পষ্ট নয়। কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, টানেলগুলো ধ্বংস করলে সামরিক সক্ষমতা কমতে পারে-তবে সিভিল অবকাঠামো, পুনর্গঠন ও গাজার মানুষের উপর প্রভাবকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
ইসরায়েলের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে; বিশেষত আশেপাশের দেশগুলো ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিকদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ প্রবাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখ করতে পারে। সূত্রগুলো বলছে-টানেল ধ্বংসকাজ বাস্তবায়নের আগে কিভাবে গাজায় নিরাপত্তা রূপরেখা করা হবে, তাতে আরব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ব্যস্ত মধ্যস্থতাই সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখবে।
সুত্রঃ এএফপি