ট্রাম্পের ভাষণের মাঝে ইসরায়েলি এক সংসদ সদস্য ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি কাগজ তুলে ধরেন। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৪ অক্টোবর-ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘কনেসেট’-এ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ চলাকালে বিরোধীদলীয় এমপি ও মানবাধিকারকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়ায়। তারা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন।
সাক্ষীদের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প যখন গাজা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন, তখন কয়েকজন এমপি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন, “ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ছাড়া কোনো শান্তি সম্ভব নয়।”
বিক্ষোভকারীরা সংসদের গ্যালারি থেকেও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁদের বের করে দেন।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “গাজায় সহিংসতা বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ হলো পারস্পরিক আস্থা ও মানবিক সহায়তা।” তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থিতিশীল ও বাস্তবসম্মত শান্তি প্রক্রিয়া’ শুরু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়কেই এখন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা একটি স্থায়ী সমাধান চাই, যুদ্ধবিরতির নয়।”
ট্রাম্পের বক্তৃতা শেষে ইসরায়েলি সংসদের স্পিকার বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে মতপ্রকাশের অধিকার আমরা সম্মান করি, তবে সংসদীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ অগ্রহণযোগ্য।”
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই বিক্ষোভকে “ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রামাল্লা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়া কোনো শান্তি প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না।”
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায় খুলতে পারে, তবে মাঠের বাস্তবতায় ফিলিস্তিনি প্রশ্নই রয়ে গেছে মূল বাধা।
সুত্রঃ বিবিসি