প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ১৭ সেপ্টেম্বর ওসাকা এক্সপোতে জাপান প্যাভিলিয়নের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। | জিজি
মেলবোর্ন, ১৪ অক্টোবর: জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার জন্য ওসাকা এক্সপো ২০২৫ কেবল একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী নয়, ছিল কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের এক অনন্য সুযোগ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ছয় মাসব্যাপী এই বিশ্বমেলার পর্দা নেমেছে। সেই সাথে সমাপ্ত হচ্ছে জাপানের এই “এক্সপো কূটনীতি” অধ্যায়।
ছয় মাসে ৯০ রাষ্ট্রনেতার আগমন
ওসাকা এক্সপো চলাকালে প্রায় ৯০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান জাপানে সফর করেছেন নিজেদের “ন্যাশনাল ডে” অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। ইশিবা এই সময়ে প্রায় ৫০ জন বিদেশি নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন, উত্তর কোরিয়ার জাপানি নাগরিক অপহরণের ঘটনা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের নানা বিষয়।
প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৫ এপ্রিল এক্সপো শুরুর দুই দিন পর তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট সারদার বারদিমুখামেদভের সঙ্গে। শেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় গত বৃহস্পতিবার, হাইতির ট্রানজিশনাল প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্থনি ফ্রাঙ্ক লরেন্ট সেন্ট-সিয়রের সঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপের উপস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে জুলাই মাসে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জাপান সফর করে, যদিও ১৯ জুলাই মার্কিন “ন্যাশনাল ডে” উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগমন শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
চীন থেকে উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেং জুলাইয়ে জাপান সফর করেন এবং জাপানের শাসক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির তৎকালীন মহাসচিব হিরোশি মোরিয়ামার সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে জাপানি গরুর মাংস আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় পশুস্বাস্থ্য ও কোয়ারেন্টাইন চুক্তি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেয় চীন।
ইউরোপ থেকেও অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড ও পর্তুগালের নেতারা এক্সপো উপলক্ষে জাপান সফর করেন। তবে ইশিবা নিজে গত অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইউরোপ সফরে যাননি।
কূটনৈতিক সাফল্যের সুযোগ
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “ওসাকা এক্সপো ছিল জাপানের জন্য এক অমূল্য কূটনৈতিক সুযোগ। গত পাঁচ থেকে দশ বছরে যেসব দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সফর হয়নি, তাদের সঙ্গেও আমরা এই এক্সপোর মাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক করতে পেরেছি।”
২০০৫ সালের আইচি এক্সপোতেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমি প্রায় ৩০টি শীর্ষ বৈঠক করেছিলেন, যেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাকসহ বহু বিদেশি নেতা অংশ নিয়েছিলেন। তবে এবার অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বৈঠকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পর্দা নামছে ওসাকা এক্সপো ২০২৫-এর, শেষ হলো ছয় মাসব্যাপী এই বিশ্বমেলা। ছবি: ওটিএন বাংলা সংগৃহীত
ওসাকা এক্সপো ২০২৫ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইশিবার নেতৃত্বেরও একটি অধ্যায় শেষ হচ্ছে। আসন্ন সপ্তাহগুলোতে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এক্সপোর ছয় মাসে জাপান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে—যা “এক্সপো কূটনীতি”-র মূল সাফল্য হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।