কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওডিঙ্গা। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের বিরোধী রাজনৈতিক নেতা রাইলা আমোলো ওডিঙ্গা আর নেই। ৮০ বছর বয়সে ভারতের নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
রাইলা ওডিঙ্গা ছিলেন কেনিয়ার রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।
১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া রাইলা ওডিঙ্গা ছিলেন কেনিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী জারামোগি ওগিঙ্গা ওডিঙ্গার পুত্র। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে তিনি তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৯০-এর দশকে তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে নেতৃত্ব দেন এবং ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল এক যৌথ সরকার ব্যবস্থার অংশ।
তিনি পাঁচবার কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন (১৯৯৭, ২০০৭, ২০১৩, ২০১৭, ২০২২), কিন্তু দুর্নীতি ও নির্বাচন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবারই ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ২০০৭ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় হাজারো মানুষ প্রাণ হারায়, যা দেশটিকে গভীর সংকটে ফেলে।
রাইলা ওডিঙ্গার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই কেনিয়ার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজধানী নাইরোবি থেকে শুরু করে পশ্চিমাঞ্চলীয় কিসুমু পর্যন্ত তাঁর সমর্থকরা সমবেত হয়ে শোকসভা পালন করছেন।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এক বিবৃতিতে ওডিঙ্গার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন,“রাইলা ওডিঙ্গা ছিলেন আমাদের জাতির গণতন্ত্রের এক অক্লান্ত যোদ্ধা। তাঁর অবদান কেনিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
সরকার তাঁর সম্মানে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
রাইলা ওডিঙ্গা শুধু কেনিয়ায় নয়, বরং গোটা আফ্রিকা জুড়েই গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১০ সালের সংবিধান সংস্কারে তাঁর নেতৃত্ব কেনিয়ার ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি আফ্রিকার শান্তি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়াত নেতাকে তাঁর নিজ জেলা কিসুমুতে দাফন করা হবে। কেনিয়া সরকার জানিয়েছে, তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।
সুত্রঃ রয়টার্স