বিক্ষোভের সময় আগুনে পুড়ে যাওয়া নেপালের সুপ্রিম কোর্ট ভবন। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- নেপালের সুপ্রিম কোর্টে ১১টি রিট মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোতে চ্যালেঞ্জ তুলেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আইনগত বৈধতা ও বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত। ওই রিটগুলোর মধ্যে আদালতে দাবি করা হয়েছে যে, পার্লামেন্ট বিলুপ্তি এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন সংবিধানের লঙ্ঘন।
আজ সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র অর্জুন প্রসাদ কোইরালা জানিয়েছেন, রিটগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে এবং আদালত তাদের পর্যালোচনা করে শুনানি নির্ধারণ করবে।
গত ৮-৯ সেপ্টেম্বর “Gen Z” নামে পরিচিত যুব আন্দোলন শুরু হয়, সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা, দারিদ্র্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ঘটে গেল সহিংসতা; বেশ কিছু সরকারি ভবন দগ্ধ এবং ক্ষমতা শৃঙ্খলাবিহীন অবস্থা সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি এবং তার সরকার পদত্যাগ করেছিলো বিক্ষোভের আবর্তে।
এরপর রাষ্ট্রপতির সুপারিশে, সুশোলা কার্কি (দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি)কে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয় এবং একযোগে নিম্ন সংসদ (House of Representatives) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
পার্লামেন্ট বিলুপ্তি ও কার্কি সরকার গঠনের সিদ্ধান্তকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আইনজীবী গোষ্ঠী অবৈধ ও অসংবিধানতর্ক দাবি করেছে।
রীতির দায়েরকারীদের যুক্তি, নিম্ন সংসদ বিলুপ্তি এবং নতুন সরকার গঠন সংবিধান २०७२ (নেপাল ফেডারেল সংবিধান)–এর ধারা লঙ্ঘন করেছে, বিশেষ করে যে অংশে বলা আছে প্রধানমন্ত্রী হতে হলে সংসদের সদস্য হতে হবে।
আইনপণ্ডিতদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে “necessity doctrine” বা প্রয়োজ্যতা তত্ত্ব প্রয়োগ করা যেতে পারে কিন্তু সেটি আইনসাপেক্ষ ও সীমিতভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
কিছু আইনজ্ঞ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি “সাবলীল, সংবিধানসম্মত মাঝপথ” হতে পারে যদি সেটা নির্বাচনের পথে পরিচালিত হয় – তবে তা সংবিধান ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকতে হবে।নেপাল বার কাউন্সিল, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এবং আইনজীবী সংগঠন পার্লামেন্ট বিলুপ্তি ও কার্কি সরকারকে অবৈধ বলে প্রতিহিংসিত করেছে।
আন্দোলন নেতা ও স্টেকহোল্ডাররা দাবি করছে, এই অন্তর্বর্তী সরকার কেবল সময়সীমার জন্য থাকবে এবং নির্বাচন আয়োজন করবে। আদালতের রায় এই মুহূর্তে সবকিছু নির্ধারণ করবে যদি আদালত রিটগুলোর মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্তগুলিকে বাতিল করে, তাহলে দেশ রাজনৈতিকভাবে নতুন চ্যালেঞ্জে পড়বে।
ইসরায়েল গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ হিসেবে এই ফেরত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফেরত পাওয়া মৃতদেহগুলো গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেরত পাওয়া অধিকাংশ দেহে গুরুতর আঘাত, হাত-পা বাঁধা অবস্থার চিহ্ন এবং গুলির ক্ষত লক্ষ্য করা গেছে। কিছু মরদেহে চোখ বাঁধা অবস্থার প্রমাণও পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের দাবি, অনেক মরদেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
নাসের হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন,“এদের অনেকে সম্ভবত জীবিত অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকের দেহে ঘা, পুড়ে যাওয়ার দাগ এবং মাথায় কাছ থেকে গুলির আঘাত দেখা গেছে।”
এই মরদেহ ফেরতের ঘটনা ঘটেছে মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল ধাপে ধাপে ৩৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহতের মরদেহ ফেরত দেবে। প্রথম দফায় ৪৫টি মরদেহ ফেরত দেওয়া হলো।
মৃতদেহগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রস (ICRC)-এর তত্ত্বাবধানে গাজার প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি মরদেহের সঙ্গে কেবল নম্বর লেবেল দেওয়া ছিল—কোনো নাম বা পরিচয়পত্র ছিল না। ফলে পরিবারগুলোর জন্য পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের দেহে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে কিছু শিশু ও নারীও রয়েছেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে যথাযথভাবে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ফেরত দেওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে অন্তত একজন এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি “হামাসের হাতে আটক” ছিলেন না। ইসরায়েল বলছে, তাদের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি পালন করা, এর বাইরে কোনো অভিযোগের সত্যতা তারা স্বীকার করছে না।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
চলমান এই সংঘাতে অসংখ্য ফিলিস্তিনির মরদেহ এখনও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গেছে।
সুত্রঃ এএফপি