শেখ হাসিনার সম্পদ পুনঃযাচাইয়ে তথ্য চেয়েছে দুদক
শ্যামল সান্যাল, ঢাকা মেলবোর্ন, ৪ মে- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পুনঃযাচাইওজ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন…
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি একদিন আগেই ১৪৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ জন্য খুব একটা দেরি না করে ঠিক পরের দিনই ২৯১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি ৩টি আসন অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-কে ছেড়ে দিয়েছেন।
ছাব্বিশের মহাচ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেমন প্রার্থী দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো? ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী দিয়ে কি আবারও বাজি ধরলেন তিনি? এ নিয়ে ওটিএন বাংলার পাঠকদের জন্য বিশেষ প্রতিবেদন।
বাদ পড়েছেন ৭৪ বিধায়ক
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে ৭৪ জন বর্তমান বিধায়কের নাম না থাকা। নানা বিবেচনায় তাদেরকে এবার প্রার্থী করেনি দলটি। অনুপাতের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩ শতাংশে। এমন ঘটনা এর আগে তৃণমূলের ইতিহাসে ঘটেনি। মূলত বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন বিধায়কদের মনোনয়ন দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আবার গত পাঁচ বছরের পারফরম্যান্স বিচার করে ১৫ জন বিধায়কের আসন বদল করা হয়েছে। মানে এসব বিধায়ককে এবার নতুন কেন্দ্রে লড়াই করতে হবে।
নতুন মুখ
প্রতিবারের নির্বাচনেই নতুন মুখের কিছু না কিছু চমক রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনে নুতন মুখ হিসেবে আছেন কুণাল ঘোষ, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, পবিত্র কর, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাংশু ভট্টাচার্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। এদের মধ্যে পবিত্র কর লড়বেন বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে।
মুসলিম প্রার্থী
আগের বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১ সালে) তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৪২ জন। এই নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। মোট কথা মমতা এবারও বাজি ধরেছেন এসব মুসলিম প্রার্থীদের ওপর। কারণ তিনি জানেন রাজ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম ভোট না পেলে তার ক্ষমতায় ফেরাটা অসম্ভব।
এর বাইরে বেড়েছে তফসিলি জাতি-উপজাতি প্রার্থী সংখ্যা। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৪টি আসন তফসিলি জাতি-উপজাতির (৬৮টি এসসি, ১৬টি এসটি) জন্য সংরক্ষিত রেখেছে। এর বাইরে তফসিলি জাতি-উপজাতি সম্প্রদায় থেকে আরও ১১ জনসহ মোট ৯৫ জনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
নারী প্রার্থী
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৫২ জন। আগের বিধানসভা নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিল ৫০ জন। নারীদের প্রতি তাদের দলটির বিশেষ ফোকাস দেখা গেল তাদের প্রার্থী তালিকাতেও।
নবীন-প্রবীণের ভারসাম্য
বিরোধীদলগুলো দাবি করে থাকে, তৃণমূল কংগ্রেস মমতা এবং অভিষেক এই দুই গ্রুপে বিভক্ত। একপক্ষ নবীনদের প্রতি আস্থা রাখতে চায় আরেকপক্ষ চায় প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে। প্রার্থী তালিকাতেও সেই চিত্র দেখা গেল। সেখানে নবীন-প্রবীণের ভারসাম্য রাখা হয়েছে।
প্রার্থীদের মধ্যে ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সী আছেন ১২৬ জন যা মোট প্রার্থীর ৪৪ শতাংশ। আর ৩১ বছরের নীচে বয়স এমন প্রার্থী আছেন ৪ জন। সবচেয়ে বেশী বয়সী ৮১ থেকে ৯০ বছরের প্রার্থী আছেন ২ জন । বাকি প্রার্থীদের বয়স ৫০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।
শুভেন্দুর জন্য নতুন ঘোড়ায় বাজি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন ভবানীপুরসহ দুটি আসলে লড়ছেন বিরোধীনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে তার বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে। যিনি শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেস করতেন। ২০২০ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। আজকেই তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দলে যোগ দেন। নতুন ঘোড়া হিসেবে এই পরিত্র করকেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণা করে এক প্রকার বাজি ধরেছেন মমতা।
জেলখাটা নেতাদের না
নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মে বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও মন্ত্রীকে জেলখাটতে হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন সাবেকমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সাবেকমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী, প্রাক্তন বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য, জীবনকৃষ্ণ ও আনিসুর রহমান। এদের কাউকেই প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস।
অনেক প্রশ্নের উত্তর প্রার্থী তালিকায়
যদিও সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ছাব্বিশের নির্বাচনে ২২৬ এর বেশি আসনে জিতবে তার দল। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯১ জনের এই প্রার্থী তালিকাতেই অনেক প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে তারা বেশ কিছু আসনে নিশ্চিতভাবেই পরাজিত হবে নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, কয়লা পাচারসহ নানা বিতর্কিত ইস্যুতে। সে কারণেই ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট দেয়নি।
তারা আরও বলছেন, এবারের নির্বাচন তৃণমূলের বাঁচা-মরার লড়াই। অন্য যে কোনো সময়ের নির্বাচনের চেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধায়। আগামী ৪ মে ফলাফলে নিশ্চিতভাবেই তার প্রভাব দেখা যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au