ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর অবস্থানকে ‘বোকামি’ বললেন ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘খুবই বোকামিপূর্ণ ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের…
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশিকে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জরুরি প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তা এবং তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে যাচ্ছেন। সেখানকার হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথমে ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে সড়কপথে আজারবাইজান সীমান্তে নেওয়া হবে। এরপর সীমান্ত অতিক্রম করে সড়কপথেই তাদের বাকুতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে আজারবাইজানের আকাশসীমা আংশিক খোলা রয়েছে এবং কাস্পিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে নিয়মিত বিমান চলাচল অব্যাহত থাকায় এই রুট ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসেবে ভিসা ফি, ওষুধ, খাবার এবং স্থলপথে পরিবহন খরচ বাবদ প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার দিচ্ছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। অন্যদিকে চার্টার্ড বিমানের খরচ বহন করবে সরকার। তবে এখনও পর্যন্ত ফ্লাইটের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১৯ বা ২০ মার্চের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা হতে পারে।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। গত প্রায় ১৮ দিনে বাংলাদেশ থেকে ৫৫৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘাতের প্রভাবে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে দুইজন, বাহরাইনে একজন এবং দুবাইয়ে একজন মারা গেছেন। এছাড়া অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের আরও বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল ও লেবাননকে কেন্দ্রবিন্দু ধরা হলেও এর প্রভাব বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এসব দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
এর আগে গত বছরও ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে কাজ করছে। যেমন ভারত তাদের নাগরিকদের আরমেনিয়া হয়ে দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। সেখানে নাগরিকদের নিজ দায়িত্বে ইরান থেকে আরমেনিয়া সীমান্তে পৌঁছাতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সরকারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au