আশ্রয়কেন্দ্রে মিলল শতাধিক মৃত কুকুর, রয়েছে গুলির চিহ্ন
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ‘নো-কিল’ বা প্রাণী হত্যা না করার নীতিতে পরিচালিত পশু আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ১১৭টি কুকুরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের…
মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পূর্বে ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স, বর্তমানে “ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার”)–এর নতুন গণমাধ্যম নীতির প্রতিবাদে ডজনখানেক সাংবাদিক একযোগে পদত্যাগ করেছেন এবং নিজেদের প্রবেশাধিকার কার্ড জমা দিয়ে পেন্টাগন ভবন ত্যাগ করেছেন।
নতুন নীতি অনুযায়ী সাংবাদিকদের একটি লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
মার্কিন সরকার এই পদক্ষেপকে “সাধারণ জ্ঞানসম্মত ও নিরাপত্তাবান্ধব নিয়ম” বলে দাবি করলেও, প্রায় সব প্রধান সংবাদমাধ্যমই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের আরোপিত এই শর্তকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নতুন এই আদেশ অনুসারে সাংবাদিকরা কোনো অনুমোদনহীন তথ্য তা শ্রেণিবদ্ধ (classified) হোক বা না হোক প্রকাশ করলে তাদের পেন্টাগন থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
শুধুমাত্র রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ক (OANN) এই নীতিতে স্বাক্ষর করেছে।
নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে (স্থানীয় সময়) বহু সাংবাদিক একসঙ্গে ভবন ত্যাগের প্রস্তুতি নেন। পেন্টাগনের করিডোরজুড়ে দেখা যায় নথিপত্রের বাক্স, সাংবাদিকরা নিজেদের চেয়ার, বই, ছবি এবং পুরোনো নথি গাড়িতে তুলছেন যেন এক যুগের সাংবাদিকতার বিদায় দৃশ্য।
সন্ধ্যা ৪টার কিছু পর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন সাংবাদিক নিজের আইডি ব্যাজ জমা দিয়ে ভবন ছাড়েন।
“এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক, কিন্তু একইসঙ্গে গর্বেরও কারণ আমরা সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম,” বলেন দ্য আটলান্টিক পত্রিকার সাংবাদিক ন্যান্সি ইউসুফ, যিনি ২০০৭ সাল থেকে পেন্টাগনে কর্মরত।
নতুন বিধিনিষেধের কার্যকর প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ঘোষণা দিয়েছে যে তারা এই প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সামরিক খাতের খবর প্রচার চালিয়ে যাবে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা সাংবাদিকদের প্রতিবাদে তেমন সহানুভূতি দেখাবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্ক টাইমস, সিবিএস নিউজ, এবিসি নিউজ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় জড়িত ছিলেন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথের এই নতুন নীতিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে বলেন,
“আমি মনে করি, প্রেস বা সংবাদমাধ্যম অনেক সময় বিশ্বশান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা খুবই অসৎ।”
ফক্স নিউজের প্রাক্তন টেলিভিশন উপস্থাপক পিট হেগসেথ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাত্র দুটি আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেছেন, সাংবাদিকদের অনেক এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছেন।
নতুন নীতিতে সাংবাদিকদের যে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে, হেগসেথ দাবি করেছেন সেটি কেবল নিয়মাবলীর ‘অবগতি’ নিশ্চিত করার জন্য, সম্মতির জন্য নয়। তবে সাংবাদিকদের মতে, এই ব্যাখ্যা আসলে কৌশল মাত্র বাস্তবে এটি বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা জেনারেল এবং ফক্স নিউজ বিশ্লেষক জ্যাক কিন এক মন্তব্যে বলেন,
“তারা চায় সাংবাদিকদের হাতে কেবল অনুমোদিত তথ্য তুলে দিতে, আর সেই একপাক্ষিক তথ্যই হবে পুরো সংবাদ। এটা সাংবাদিকতা নয়।”
পেন্টাগন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, যার ১০১ জন সদস্য ৫৬টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করেন, তারা এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
মার্কিন সংবাদজগতের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান উদারপন্থী থেকে রক্ষণশীল ধারার তাদের পেন্টাগন প্রতিনিধি সাংবাদিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, স্বাক্ষর নয়, বরং ভবন ত্যাগ করো।
সূত্র: ABC News / Associated Press
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au