মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা (Meta Platforms Inc.) তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ইউনিটে প্রায় ৬০০টি পদ কাটছে এ কথা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ মেমো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানান। সংস্থাটি বলেছে এই পুনরগঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বড়, ধীরগতি সম্পন্ন দলগুলোকে আরো লঘু ও সিদ্ধান্তনির্বাহী ইউনিটে রূপান্তর করা, যাতে প্রত্যেক কর্মীর ওপর বেশি আঞ্চলিক দায়িত্ব পড়ে এবং কাজের গতিবেগ বাড়ে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কাটা মূলত মেটার উচ্চ-প্রোফাইল ‘সুপারইন্টারিজেন্স ল্যাবস’ (Superintelligence Labs) শাখার বিভিন্ন অংশ থেকে এসেছে এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যগত গবেষণা (FAIR), কিছু AI প্রোডাক্ট টিম এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার গ্রুপ; তবে কোম্পানির নতুন ও ছোট TBD ল্যাব (যা সুপারহিউম্যান দক্ষতার উপর কাজ করে) এই ছাঁটাই থেকে উদাসীন রাখা হয়েছে। মেমোতে মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তা আলেকসান্ড্র ওয়াং কর্মীদের জানিয়েছেন যে ইউনিট ছোট করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যেসব অতিরিক্ত কথোপকথন বাধা সৃষ্টি করে সেগুলো কমবে এবং প্রতিটি সদস্যের প্রভাব বেড়ে যাবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে যে প্রভাবিত কর্মীদের বেশিরভাগকে বুধবারের মধ্যে জানানো হয়েছে এবং কিছু কর্মী “নন-ওয়ার্কিং নোটিস পিরিয়ড”-এ থাকবে যা তাদেরকে অকার্যকর অবস্থায় থাকা কালীন Nov 21, 2025 পর্যন্ত সময় দেয় যাতে তারা মেটার ভেতরে অন্য কোন নিয়োগ খোঁজার চেষ্টা করতে পারে; একই সঙ্গে যারা ছেড়ে যেতে চান তাদের জন্য ন্যূনতম ১৬ সপ্তাহের সেভারেন্স প্যাকেজের প্রস্তাব রয়েছে কয়েকটি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লিখিত হয়েছে।
এই ছাঁটাইটি এমন সময়ে ঘটল যখন মেটা সমসাময়িক সময়ে এআই প্রতিযোগিতায় বড় মাপের নিয়োগ অভিযান চালিয়েছিল তারই মধ্যে অনেক প্রতিভা নেওয়া হয়েছিল তবে কর্তৃপক্ষ এখন বলছে সংগঠনকে আরও ফোকাসড ও দ্রুত গতিসম্পন্ন করতে পদসমূহ ঠিক করা দরকার। বিনিয়োগকারীরা মিশ্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে; কোম্পানির স্টক কিছু রিপোর্টে অপসিটিভের পরে উঠে আসারও খবর আছে, কারণ বাজার মেটার বৃহত্তর এআই কৌশলকে এখনও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ছাঁটাইয়ের সংবাদ প্রকাশ হতেই কয়েকটি স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা ছাঁটাই করা মেটার কর্মীদের জন্য চাকরির প্রস্তাব দিয়েছেন কয়েকটি সূত্রে বলা হয়েছে যে নির্দিষ্ট স্টার্টআপগুলো কিছু প্রার্থীকে উচ্চ বেস স্যালারি ও ইক্যুইটি দিয়ে নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
মেটার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সীমিত প্রতিক্রিয়া এসেছে; কোম্পানির মেমো এবং একাধিক সংবাদসংস্থার উদ্ধৃতিতে সংগঠনের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস ও দলে ‘কম কথাবার্তা, বেশি কর্ম’ নীতিকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি জোর দিয়েছে যে ছাঁটাই মোটের উপর কোম্পানির এআই অগ্রগতির ইচ্ছাকে বদলে দিচ্ছে না বরং বড় লক্ষ্যগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাঠামো সজ্জা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংক্ষিপ্ত-পরিসরে কিছু প্রতিভার হদিশ হারানো এআই গবেষণার গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু মেটার বড় পরিকল্পনা ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (যেমন সাম্প্রতিক ডেটা সেন্টার জয়েন্ট ভেঞ্চার ইত্যাদি) এআই উদ্যোগে তারা এখনও বড় ভর্তি এবং বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় রিঅ্যাকশন দেখা যেতে পারে।
সুত্রঃ এএফপি