জোহানেসবার্গে গুলিতে নিহত নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাছের
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু নাছের (৫০)। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ABC তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, “Women’s Asian Cup 2026: Plucky Bangladesh teases much-needed jeopardy”। অর্থাৎ ২০২৬ সালের উইমেন্স এশিয়ান কাপে সাহসী পারফরম্যান্স দিয়ে প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ফলাফল অনুকূলে না এলেও বাংলাদেশের লড়াই আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নজর কাড়ছে।
এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫–০ গোলের ব্যবধানে হারলেও ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ও সাহসী ফুটবল অনেককে মুগ্ধ করেছে। ম্যাচটির প্রথমার্ধে তৈরি হওয়া নাটকীয়তা এবং বাংলাদেশের সাহসী ফুটবল এই টুর্নামেন্টে নতুন উত্তেজনার আভাস দিয়েছিল। র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরুতে বাংলাদেশ দারুণ লড়াই গড়ে তোলে এবং দীর্ঘ সময় গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হয়।
দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৭। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে তাদের শেষ ম্যাচে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৪৯ নম্বরে থাকা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেতে হবে।
প্রথম ৪৫ মিনিটে ম্যাচটি এমন এক রূপ নেয়, যা এই আসরে ছিল বিরল। উত্তর কোরিয়া তিনবার বল জালে পাঠালেও গোল পায়নি। একটি হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত, দুটি অল্প ব্যবধানে অফসাইড এবং দীর্ঘ সময়ের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পর্যালোচনা মিলিয়ে ম্যাচে গোলশূন্য অবস্থা বজায় থাকে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১০৩ ধাপ এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়া মাঠে পুরো নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও সেই সময়টুকু যেন আন্ডারডগ বাংলাদেশের জন্যই তৈরি হয়েছিল।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই সাহসী কৌশল নিয়ে মাঠে নামে। তারা জানত যে ম্যাচে আধিপত্য করা কঠিন, কিন্তু কীভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করা যায় সে বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট। এমনকি কর্নার প্রতিরক্ষার সময়ও দুইজন খেলোয়াড়কে মাঝমাঠের কাছাকাছি রেখে দেওয়া হয়েছিল, যাতে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পাওয়া যায়।
কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় একটি পেনাল্টির মাধ্যমে। উত্তর কোরিয়ার ফরোয়ার্ড হং সং-ওককে বাংলাদেশি ডিফেন্ডার নবিরান খাতুন ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টি দেন। এরপর মিয়ং ইউ-জং নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের সামনে জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেলেও তারা পুরোপুরি রক্ষণে সরে যায়নি। বরং আক্রমণের সুযোগ ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে তারকা স্ট্রাইকার কিম কিয়ং-ইয়ং গোল করলে বাংলাদেশের লড়াই কার্যত শেষ হয়ে যায়। শক্তিতে ও দক্ষতায় এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়া শেষ পর্যন্ত ৫–০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে, যা এখন পর্যন্ত এই আসরের তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ম্যাচই ছিল পূর্বানুমেয়। ছোট দলগুলো সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে, আর শক্তিশালী দলগুলো প্রয়োজনমতো আক্রমণ করে জয় নিশ্চিত করে। এশিয়ান কাপের বর্তমান কাঠামোও এই ব্যবধানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ১২ দলের মধ্যে ৮ দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে, ফলে গোল ব্যবধান ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথম দুই ম্যাচে হারলেও যদি গোল ব্যবধান খুব বেশি না হয়, তবে শেষ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৭। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে তাদের শেষ ম্যাচে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৪৯ নম্বরে থাকা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেতে হবে।
তবে ফলাফল যাই হোক, বাংলাদেশের এই অভিযাত্রা হতাশাজনক নয়। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিচে থাকা র্যাঙ্কিংয়ের দলটি সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত উন্নতি করেছে। কয়েক বছর আগেও তারা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে একটি গোলও করতে পারেনি, অথচ এখন মূল পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
এর পাশাপাশি দলের ভেতরে বড় ধরনের বিতর্কও ছিল। ২০২৫ সালে সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ কয়েকজন খেলোয়াড় কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে মৌখিক অপমান ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তদন্ত শেষে কোচের পক্ষেই অবস্থান নেয় এবং তিনি এখনও দলের দায়িত্বে আছেন। সেই ঘটনার পর সাবিনা খাতুনসহ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবারের স্কোয়াডে জায়গা পাননি।
৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে সাত গোল হজম করায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ এখন বেশ কঠিন। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে সেরা তৃতীয় দলের একটি হিসেবে শেষ আটে যাওয়ার গাণিতিক সম্ভাবনার দৌড়ে টিকে থাকতে পারে বাংলাদেশ।
এত উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে এর আগে কখনো খেলেনি বাংলাদেশ। ৩ মার্চ তারা মুখোমুখি হয়েছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৭ নম্বরে থাকা চীনের। এরপর উত্তর কোরিয়ার মতো আরেক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে।
পরপর দুই ম্যাচে এশিয়ার দুই শীর্ষ দলের বিপক্ষে মাঠে নেমে বাংলাদেশ হয়তো কোনো পয়েন্ট পায়নি, তবে এমন শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au