মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- সাম্প্রতিক সহিংস সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর সিটি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রবিবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে হল ও আবাসিক ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন দ্রুত বৈঠক ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং একটি প্রশাসনিক ভবনের কাচের দরজাসহ কয়েকটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন,
“শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আবাসিক হলগুলোও নিরাপত্তাজনিত কারণে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘটনার পূর্ণ প্রতিবেদন জমা দেবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মানিকগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান,
“সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে, যাতে পুনরায় কোনো অস্থিতিশীলতা না ঘটে।”
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই হল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন,
“আমাদের হঠাৎ হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাইরে থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন। প্রশাসনের উচিত কিছু সময় দেওয়া।”
আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন,
“সংঘর্ষে জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন করে ক্লাস ও পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খোলা হবে।