মেলবোর্ন, ৪ নভেম্বর- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’-এ সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা মহলে হতাশা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত আগস্ট মাসে জারি করা মূল বিধিমালায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি ও সমালোচনার মুখে সরকার সেই পদ দুটি বাতিল করে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এটি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথে একটি বড় বাধা। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেছেন,
“সংগীত ও শরীরচর্চা শিশুশিক্ষার অত্যাবশ্যক উপাদান। এই পদ বাদ দেওয়া মানে শিশুদের সৃজনশীল বিকাশকে রুদ্ধ করা এবং শিক্ষাকে সংকীর্ণ পরিসরে আবদ্ধ করা।”
সরকার ২০১৮ সালে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ২০ থেকে ২৫টি স্কুলের একটি ক্লাস্টারের জন্য অন্তত একজন সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের বিধিমালায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ধর্মীয় চাপ ও রাজনৈতিক বিবেচনায় তা বাদ দেওয়া হলো।
শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর প্রভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক শিক্ষার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
মনজুর আহমদ আরও বলেন,
“শিক্ষানীতিতে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপ থাকা উচিত নয়। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশই হওয়া উচিত শিক্ষানীতির মূল ভিত্তি। সরকারকে দ্রুত এই সংশোধনী বাতিল করে পূর্বের সিদ্ধান্তে ফিরে আসা প্রয়োজন।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারা থেকে পিছিয়ে দেবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও একটি নেতিবাচক বার্তা পাঠাবে।