মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- ইরানের উত্তরাঞ্চলে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি পুড়িয়ে সেই ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম আমির হোসেইনি (২৫)। কয়েকদিন আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে খামেনির ছবি পুড়িয়ে সেই ভিডিও আপলোড করেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবার জানায়, আমিরকে শেষবার তেহরানের নিকটবর্তী আলবোরজ প্রদেশে দেখা গিয়েছিল। তিন দিন পর স্থানীয় এক গ্রামীণ সড়কের পাশে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মানবাধিকার সংগঠন “ইরান হিউম্যান রাইটস” দাবি করেছে, হোসেইনি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন এবং পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সংগঠনটি ঘটনাটির আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে।
ইরানের কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, “এটি একটি অপরাধমূলক ঘটনা হতে পারে, যার সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হ্যাশট্যাগ #JusticeForAmir ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অনেক ইরানি নাগরিক বলছেন, সরকারের সমালোচনা করায় মানুষকে হত্যা করা ইরানে নতুন কিছু নয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের গ্রেপ্তার ও হত্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে।