পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ৬ সেনা নিহতের কথা স্বীকার করল ভারত
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- পাকিস্তানের সঙ্গে গত বছরের সামরিক সংঘাতে নিহত ছয় সেনা সদস্যের পরিচয় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,…
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এখনো রহস্যের জট কাটেনি। হত্যাকাণ্ডের একদিন পরও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত এক যুবককে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তবে কেন তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত অভিযুক্তের নাম অন্তর মজুমদার (প্রায় ৩০)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুর শহরে ভ্রাম্যমাণভাবে ফল বিক্রি করতেন। তবে নিহত পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল বা কী কারণে এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের গুঞ্জন থাকলেও পুলিশ এখনই কোনো সম্ভাব্য কারণ নিশ্চিত করতে রাজি নয়। কেউ আর্থিক লেনদেনের বিরোধের কথা বলছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত বিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে তদন্তকারীরা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন।
বর্তমানে অন্তর মজুমদারের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে নিহত শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহেরও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। জানাজা শেষে তাদের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ গ্রামে নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. অরূপ পাল জানান, পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শুরু করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাশেদ বলেন, এখনো এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। খুব শিগগিরই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), ইকরা আক্তার (১৭) এবং শিফা আক্তারকে (৯) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইকরা ও শিফারও মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au