ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চায় যুক্তরাষ্ট্র, তবে নিরাপত্তার বিনিময়ে নয়: মার্কো রুবিও
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় আগ্রহী হলেও কোনো ধরনের ছাড় বা মূল্য দিয়ে চুক্তি করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।…
মেলবোর্ন, ৬ নভেম্বর- ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান জাতিসংঘে নিযুক্ত প্রতিনিধি আলী শারার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, “ইরানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদের নীতির পরিপন্থী। জাতিসংঘের উচিত এসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা।”
এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘের সদরদপ্তর অবস্থিত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানি প্রতিনিধিদের ভিসা অনুমোদন এবং চলাচলে সীমাবদ্ধতা সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমালোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুসারে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।”
আলী শারার ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) আলোচনার অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং ইরানের পক্ষে জাতিসংঘে বিভিন্ন আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, অভিযোগ আনে যে তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
জাতিসংঘের কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বা কূটনীতিককে তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি তাদের “নিরাপত্তা আইনের আওতাধীন বিশেষ ক্ষেত্র।” এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য মনে করছেন, “জাতিসংঘ সদরদপ্তর সম্পর্কিত চুক্তি” অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের উচিত শারার চলাচলে বাধা না দেওয়া।
অন্যদিকে, ইরান জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে “কূটনৈতিক অনাচার” বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পক্ষপাতদুষ্ট নীতির অবসান ঘটাতে হবে।”
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংলাপের সম্ভাবনা বাড়াতে ওয়াশিংটন এই আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপকে একটি “ইতিবাচক ইঙ্গিত” হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ যদি আলী শারার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তাহলে তা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে একটি “গুরুত্বপূর্ণ বার্তা” বহন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরানবিরোধী মনোভাব শক্তিশালী থাকায় এই আহ্বান বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au