ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫, আহত দেড় হাজারের বেশি
মেলবোর্ন, ২৬ জুন-দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত এক হাজার ৫২০ জন।…
মেলবোর্ন, ১৩ নভেম্বর- মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্রের যোগসাজশে অন্তত সাড়ে ১৮ হাজার শ্রমিকের কাছ থেকে প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে এসব শ্রমিকের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। শ্রমিকরা জানান, মালয়েশিয়ার কর্মসংস্থানের সুযোগ দেখিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভিসা ও নিয়োগপত্র না পেয়ে তারা বিদেশ যেতে পারেননি। অনেকে আবার মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট সংখ্যক এজেন্সিকে, কিন্তু বাস্তবে ১০০টিরও বেশি এজেন্সি অনিয়মের মাধ্যমে প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় থেকে অবৈধভাবে শ্রমিক সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। কিছু অর্থ ব্যাংক হিসাবের বাইরে নগদে লেনদেন হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা, যেখানে সরকারি তদারকি দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
প্রতারণার শিকার শ্রমিকরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অনেকে বলেন, “আমরা সবকিছু বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হারিয়েছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সরকারি তদারকি না বাড়ালে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে, যা দেশের ভাবমূর্তি ও বৈদেশিক আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au