মেলবোর্ন, ২২ নভেম্বর- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে আবারও কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ৩০ নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাবেন সব সহকারী শিক্ষক। বছরের শেষ দিকে বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে এই ঘোষণা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ। সংগঠনের আহ্বায়কদের মধ্যে আবুল কাশেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খাইরুন নাহার লিপি ও আনোয়ার উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল সরকার। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন বা বাস্তব অগ্রগতি দেখা না যাওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে।
একই সঙ্গে ৮ নভেম্বর পুলিশের লাঠিচার্জে আহত শিক্ষকদের সুচিকিৎসা এবং নিহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ পেনশনের দাবি তোলেন শিক্ষক নেতারা।
৮ নভেম্বর তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। সেদিন শাহবাগের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রথমে বাধা দেয়, পরে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ছোড়ে। লাঠিচার্জে আহত হন শতাধিক শিক্ষক। এর প্রতিবাদে শুরু হয় কর্মবিরতি, যা পরে সরকারের আশ্বাসে সাময়িক স্থগিত করা হয়।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো: দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
এদিকে ৮ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। শিক্ষকদের ঘোষিত কর্মসূচি পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত করতে পারে বলে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও পরিচালনাপর্যায়ে। প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।