চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২২ নভেম্বর- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি-প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে এমন কিছু শর্ত আছে যা মেনে নেওয়া ইউক্রেনের জন্য খুব কঠিন। তিনি বলেছেন, দেশটি এখন এমন এক সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে হয় মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি, না হয় সবচেয়ে বড় মিত্রকে হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “এটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। ইউক্রেনের ওপর এখন চাপ সবচেয়ে বেশি। আমাদের হয় মর্যাদা হারাতে হবে, নাহয় গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে। আমি লড়ব যাতে ইউক্রেনের মর্যাদা ও স্বাধীনতা কোনোভাবেই উপেক্ষিত না হয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা কী
ওয়াশিংটন কিয়েভকে যে ২৮ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে, তাতে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সেনাবাহিনীর ওপর সীমা নির্ধারণ এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্য ত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী
• ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে সরে যেতে হবে
• সেনাসংখ্যা সর্বোচ্চ ছয় লাখে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে
• ইউক্রেন কখনো ন্যাটোর সদস্য হতে পারবে না
• রাশিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল হবে
• রাশিয়াকে আবার জি৮-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে
কিন্তু ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি, ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে ন্যাটোর মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, পুরো নথিতে মাত্র একটি অস্পষ্ট বাক্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে এক সপ্তাহের মধ্যে পরিকল্পনা মেনে নিতে বলেছে। পরিকল্পনা না মানলে গোয়েন্দা তথ্য ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরে অস্থিরতার আশঙ্কা
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক টিম অ্যাশ বলেছেন, “এই প্রস্তাব রাশিয়ার সব চাওয়া পূরণ করছে, আর ইউক্রেন খুব সামান্যই পাচ্ছে। জেলেনস্কি এটি মেনে নিলে ইউক্রেনে বড় রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।”
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা “চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে”। তিনি আরও হুমকি দিয়েছেন, ইউক্রেন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রাশিয়া আরও এলাকা দখল করবে। সম্প্রতি কূপইয়ানস্ক শহর দখলের দাবি তুলে তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সামনে আরও ঘটবে।”
ইউরোপের সতর্ক বার্তা
ইউরোপীয় নেতারা এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা আগে থেকে আলোচনার অংশ ছিলেন না। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, “আমরা সবাই চাই যুদ্ধ শেষ হোক, কিন্তু কীভাবে শেষ হবে সেটাই মূল বিষয়। রাশিয়ার কোনো আইনি অধিকার নেই কোনো ছাড় পাওয়ার।”
ওয়াশিংটন বলছে, এই পরিকল্পনা ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি। কিন্তু উমেরভ বলেছেন, তিনি কোনো শর্তে সম্মতি দেননি, শুধু কারিগরি সমন্বয়ের ভূমিকা রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থান
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি রাশিয়ার কিছু যুক্তি সমর্থন করলেও সাম্প্রতিকভাবে মস্কোর ওপর চাপও বাড়িয়েছেন। গত মাসে তিনি পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন এবং রাশিয়ার বড় দুই তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
জেলেনস্কি এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে খোলা মনে ধন্যবাদ জানালেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ইউক্রেন কোনো অপমানজনক শান্তি চুক্তি মানবে না এবং দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au