আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ২ মার্চ রাতে শ্রীনগর থানা এলাকা থেকে প্রতিবেশী মীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও কবরস্থানে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই তিনি রেখা রাণী রায়কে হত্যা করেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত রেখা রাণী রায় (৬৫) মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে ভেষজ চিকিৎসা বা কবিরাজি চিকিৎসার জন্য পরিচিত ছিলেন।
গত বছরের ১৫ অক্টোবর বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন ১৬ অক্টোবর সকালে গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে দেখা যায়, তার দুই হাত ও পা গামছা দিয়ে বাঁধা এবং গলায় শাড়ি পেঁচানো অবস্থায় রয়েছে।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সিরাজদীখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ছিল ১৮। প্রথমে থানা পুলিশ প্রায় ২৯ দিন তদন্ত চালালেও পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা ইউনিট স্বপ্রণোদিত হয়ে গ্রহণ করে।
পিবিআই তদন্ত শুরু করার পর থেকেই ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে থাকে। তদন্তের একপর্যায়ে তারা লক্ষ্য করে যে নিহতের প্রতিবেশী মীর হোসেন ঘটনার পর থেকে রহস্যজনকভাবে পলাতক রয়েছেন। পাশাপাশি ভিকটিমের সঙ্গে তার পূর্বের কিছু বিরোধের বিষয়ও সামনে আসে। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পিবিআই নিশ্চিত হয় যে মীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা মীর হোসেনকে শেষ পর্যন্ত গত ২ মার্চ রাত ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের বারিগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
জবানবন্দিতে মীর হোসেন বলেন, কিছুদিন ধরে তিনি তীব্র দাঁতের ব্যথায় ভুগছিলেন। এই ব্যথা উপশমের জন্য তিনি স্থানীয় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত রেখা রাণী রায়ের কাছে চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, রেখা রাণী তার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেননি। এ বিষয়টি নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
ঘটনার দিন ১৫ অক্টোবর বিকেলে মীর হোসেন স্থানীয় একটি সামাজিক কবরস্থান পরিষ্কার করতে যান। ওই সময় মাগরিবের নামাজের প্রায় ১০ মিনিট আগে রেখা রাণী রায় সেখানে প্রবেশ করতে চান। মীর হোসেন দাবি করেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তিনি রেখা রাণীকে কবরস্থানে প্রবেশ করতে বাধা দেন।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, রেখা রাণী সেই বাধা উপেক্ষা করে কবরস্থানে প্রবেশ করেন এবং একটি পুরোনো কবরের মাটি ও গাছের শিকড় সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মীর হোসেন ভিকটিমের পরিহিত শাড়ির আঁচল দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের কোমরে থাকা গামছা দিয়ে রেখা রাণীর দুই হাত ও পা বেঁধে ফেলেন।
এরপর মরদেহ টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি ধানক্ষেতের পানিতে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে স্বীকার করেন তিনি।
পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মীর হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au