সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এক সপ্তাহ ধরে আকাশপথ কার্যত বন্ধ থাকার পর এবার ধাপে ধাপে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাতারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত তাদের আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই পর্যায়ে শুধু উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত ফ্লাইট এবং জরুরি পণ্যবাহী কার্গো ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে আরও ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তবেই যাত্রীবাহী ফ্লাইট পুনরায় চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বিমানের চলাচল প্রায় শুন্য। ছবিঃ ফ্লাইট রাডার ২৪
কাতার সরকারের কর্মকর্তারা জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, শুক্রবার তারা দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা অন্তত নয়টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিহত করা ড্রোনগুলোর মধ্যে একটি জনশূন্য এলাকায় পড়ে গেলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এসব ঘটনার পর কাতারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং আকাশপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সারা রাত ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতা জারি করা হয় এবং লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা বাংকারে অবস্থান করতে হয়। ছবিঃ রয়টার্স
এই হামলার কারণে সারা রাত ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতা জারি করা হয় এবং লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা বাংকারে অবস্থান করতে হয়। সাইরেন বাজতেই সাধারণ মানুষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান, ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর আতঙ্ক বিরাজ করে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কৌশলগতভাবে বিভিন্ন সময় বিরতি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, যাতে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বাংকারে থাকতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে দেশটির সরকারের ওপর জনমতের চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা ছিল যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে অন্তত এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, এই সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম এবং এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য এবং আগাম হামলার কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেই এমনটি ঘটছে।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। কাতারের আকাশপথ আংশিক বন্ধ থাকা এবং বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি থাকা পরিস্থিতির গভীরতাকেই নির্দেশ করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা, বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au