দেশব্যাপী আন্দোলনে নামতে চায় ভারতের মুসলিমরা
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হামলা, বৈষম্য ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মুসলিমদের অন্যতম…
মেলবোর্ন, ৬ ডিসেম্বর- পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও দেশটির সামরিক নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী শুক্রবারের এক ব্রিফিংয়ে ইমরান খানকে ‘মানসিক অসুস্থ’ ও ‘আত্মকেন্দ্রিক’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। কয়েক দিন আগে কারাগার থেকে ইমরানের পাঠানো বার্তায় সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলা হয়েছিল। এর পরেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে।
ব্রিফিংয়ে সেনা মুখপাত্রের অভিযোগ, কারাগারে থাকা ইমরান সাক্ষাৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। তার ভাষায়, ইমরান এমনভাবে আচরণ করছেন যেন তিনি ক্ষমতায় না থাকলে রাষ্ট্রের কোনো কাঠামো থাকতেই পারে না। তিনি আরও বলেন, কারাগারে যেসব ব্যক্তি ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে যান, তাদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।
ইমরানের বোন উজমা খান দুই দিন আগে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তিনি জানান, সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ইমরান অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এর পরই সেনাবাহিনীর ব্রিফিং ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
ইমরানের দল পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সেনাবাহিনীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ব্রিফিংয়ের উদ্দেশ্য ইমরান খানকে মানসিকভাবে চাপে রাখা এবং দলে চলমান ধরপাকড়কে ন্যায়সঙ্গত দেখানো।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার সঙ্গে কারো যোগাযোগ না হওয়ার অভিযোগে পিটিআই বিক্ষোভের ডাক দেয়। এরপর তার বোনকে কারাগারে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
ইমরানের পক্ষ থেকে ৩ ডিসেম্বর এক্সে প্রকাশিত বার্তায় সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে বলা হয়, মুনিরের নীতি পাকিস্তানের জন্য ‘ধ্বংসাত্মক’ হয়ে উঠেছে এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় পৌঁছেছে। ইমরানের দাবি, মুনির আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পাওয়ার জন্য আফগানিস্তানের সঙ্গে অযথা উত্তেজনা বাড়াচ্ছেন এবং পশ্চিমা শক্তিদের খুশি রাখতে নীতি নির্ধারণ করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেনাপ্রধানের নির্দেশেই তাকে এবং তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনের ভিত্তি ভেঙে পড়েছে।
সেনাবাহিনী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য বিরোধ পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান উত্তেজনা দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও দুরূহ করে তুলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au