৩৯ বছরে পা রাখলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সফল তারকাদের একজন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি আজ ৩৯ বছরে পা রেখেছেন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ফুটবল জাদুকর নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম ও অসাধারণ মানসিক শক্তির মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের এক অবিস্মরণীয় কিংবদন্তি।
১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেওয়া মেসির শৈশব মোটেও সহজ ছিল না। অল্প বয়সেই তার শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়ে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব। সেই কঠিন সময়ে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা তার পাশে দাঁড়ায়। এরপর শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক অধ্যায়ের।
বার্সেলোনার হয়ে প্রায় দুই দশক মাঠ মাতানো মেসি ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেন। কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে তিনি জিতেছেন ১০টি লা লিগা, ৭টি কোপা দেল রে, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং অসংখ্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক শিরোপা। বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করে তিনি গড়েছেন একাধিক রেকর্ড।
ক্লাব ফুটবলে প্রায় সবকিছু জয়ের পরও দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল তার। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার এবং টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয় তাকে হতাশ করেছিল। তবে সমালোচনা, ব্যর্থতা ও হতাশাকে পেছনে ফেলে ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জিতিয়ে আন্তর্জাতিক শিরোপার খরা কাটান তিনি।
এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যার জন্য অপেক্ষা করছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতা পায় তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাও জিতে আর্জেন্টিনাকে আরও একবার শীর্ষে নিয়ে যান তিনি।
ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায়ও মেসি অনন্য। রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর, একাধিক ফিফা দ্য বেস্ট পুরস্কার, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শ্যু এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত সম্মাননা তার ট্রফি ক্যাবিনেটকে করেছে সমৃদ্ধ। তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয় তার খেলার সৌন্দর্য, ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা।
৩৯ বছরে পা রেখেও তিনি এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আকর্ষণ। বয়সকে যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাঠে সমানতালে লড়াই করে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার প্রভাব এখনও অটুট।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি একটি অনুভূতি, একটি যুগের নাম। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু লিওনেল মেসির নাম এখনও উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং বিস্ময়ের সঙ্গে। জন্মদিনে তাই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের একটাই শুভকামনা—ফুটবলের এই মহাতারকা আরও দীর্ঘদিন তার জাদু ছড়িয়ে যাক সবুজ মাঠে।