১৮ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপে প্রাণের সন্ধান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুদামের ছাদ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার…
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হামলা, বৈষম্য ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মুসলিমদের অন্যতম সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। সংস্থাটি বলছে, মুসলিমদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার সংকুচিত হয়ে আসছে এবং এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সংগঠিত গণআন্দোলন গড়ে তোলার সময় এসেছে।
সম্প্রতি বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ-মাদ্রাসা ইস্যু এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বোর্ডের মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের অবস্থা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এসব বিষয় তুলে ধরতে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনতে বোর্ড শিগগিরই একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
তিনি বলেন, মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে বোর্ড দেশব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বোর্ডের দাবি, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের লক্ষ্য করে গণপিটুনি, বাড়িঘর উচ্ছেদ, মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙচুর এবং প্রশাসনিক হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান বাধ্যতামূলক করার প্রবণতা, মাদ্রাসার ওপর চাপ সৃষ্টি এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর উদ্যোগ মুসলিম সমাজের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দেশব্যাপী আন্দোলন পরিচালনার জন্য ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে পৃথক কমিটি এবং তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার জন্য বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন গড়ে তোলা হবে। এসব কমিটি মুসলিমদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকারবিষয়ক বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধ, তরুণ ও নাবালকদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বোর্ডের নেতারা বলেন, বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে একটি পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ বাজেট কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মুসলিমরা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে এবং সরকারি নীতিনির্ধারণে তাদের সমস্যাগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও হতাশাজনক। মুসলিমদের নানা সমস্যা ও উদ্বেগ নিয়ে এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল কার্যকরভাবে কথা বলছে না। তিনি বলেন, “কংগ্রেসসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিই মুসলিম সমাজের অসন্তোষ রয়েছে। আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে তারা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
বৈঠকে মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ঐতিহাসিক ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদ নিয়েও আলোচনা হয়। সম্প্রতি আদালতের একটি রায়ে মসজিদটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড দাবি করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশের দাবি, মসজিদটির নিচে দেবী সরস্বতীর একটি প্রাচীন মন্দিরের নিদর্শন রয়েছে।
এ বিষয়ে এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, আদালতে ঐতিহাসিক দলিল, রাজস্ব নথি ও ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছিল। এরপরও মসজিদ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বোর্ডের বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির দাবি, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর আসাম, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও এ আইন চালুর প্রস্তুতি চলছে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনগুলোর পরিবর্তে সব নাগরিকের জন্য একই ধরনের আইন প্রযোজ্য হবে। মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি বিয়ে, তালাক, ভরণপোষণ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
বোর্ডের মতে, সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দিয়েছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘অ্যাকশন কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au