মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন
সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে, বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন এবং ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও উচ্চমাত্রার প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং বিপর্যয়টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বহু ভবনের দেয়ালে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও পুরো ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ভেতর থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ভবন ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঠেকাতে অনেক স্থাপনায় গ্যাস সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের চাকাও পৌরসভার মেয়র গুস্তাভো দুকে জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় অন্তত দুটি স্থাপনা ধসে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৬ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ বাসা ও কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ প্রবল কম্পন শুরু হলে আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনের দেয়াল ফেটে যায়, ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে কাচ ভেঙে পড়ে। ১৯৬৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সঙ্গে এবারের কম্পনের তুলনা করেছেন অনেক বাসিন্দা।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বে ডাকা হয়েছে। কিছু হাসপাতাল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র পুয়ের্তো রিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। পরে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
ভেনেজুয়েলা এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে। অতীতেও দেশটি একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au