স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউটে ব্রাজিল। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিজেদের চিরচেনা ছন্দে ফিরেছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২ দলের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আর একটি গোল করেন মাতেউস কুনিয়া।
ম্যাচ শুরুর আগে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিয়ে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। একই সময়ে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারায় মরক্কো। তবে ব্রাজিলকে আর অন্য মাঠের ফলাফলের দিকে তাকাতে হয়নি। নিজেদের ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে গোল ব্যবধানেও এগিয়ে থেকে গ্রুপসেরা হয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি ব্রাজিলকে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র এবং দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও খেলার মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছে সেলেসাওরা। আক্রমণ, বল দখল এবং দলীয় সমন্বয়ে দেখা গেছে পুরোনো ব্রাজিলের ঝলক।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
২২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস আবারও বল জালে জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে। সিদ্ধান্তটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হলেও খেলার ধারায় এর প্রভাব পড়েনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল। এই গোলের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় চারটিতে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। ৬০ মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মাতেউস কুনিয়া। চলতি বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করে যাওয়া এই ফরোয়ার্ড আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন।
স্কটল্যান্ডও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। বিরতির পর অন্তত দুবার নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন বেকার। একটি ফ্রি-কিক থেকেও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল স্কটিশরা। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন এই তারকা ফুটবলার। ৭৬ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময় পুরো স্টেডিয়াম ‘ওলে, ওলে, নেইমার’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। তার উপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
তিন ম্যাচ শেষে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে উঠেছে ব্রাজিল। সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের এখনও নকআউটের আশা রয়েছে। অন্যদিকে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় হাইতির বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়েছে।
আগামী ২৯ জুন হিউস্টনে শেষ ৩২ দলের পর্বে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে সুইডেন, জাপান কিংবা নেদারল্যান্ডস।
এদিকে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল মরক্কো। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর আত্মঘাতী গোলে ১০ মিনিটে এগিয়ে যায় হাইতি। ৩৯ মিনিটে আশরাফ হাকিমি সমতা ফেরালেও ৪৩ মিনিটে ইসিদোরের গোলে আবারও পিছিয়ে পড়ে মরক্কো। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইসমাইল সাইবারির গোল ম্যাচে সমতা আনে। পরে দ্বিতীয়ার্ধে আবদেররাজাক হামদাল্লাহ রাহিমি ও ইয়াসিনের গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার দলটি।
তবে দিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের নেতৃত্বে আক্রমণভাগের ঝলক, নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপের বাকি দলগুলোর জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সেলেসাওরা। নকআউট পর্বের আগে নিজেদের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে শিরোপা দৌড়ে আবারও শক্ত অবস্থানের জানান দিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।