হস্তচালিত তাঁতে টাঙ্গাইল শাড়ি বুনছেন এক নারী। ছবি: সমকাল
মেলবোর্ন, ১০ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প এবার আন্তর্জাতিক মর্যাদার নতুন স্তরে পৌঁছাল। ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের ২০তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের বৈঠকে শিল্পটিকে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এই স্বীকৃতি মেলে, যা বাংলাদেশের ষষ্ঠ একক নিবন্ধন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দলনেতা এবং ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, দুই শতাব্দীরও বেশি সময় জুড়ে টাঙ্গাইলের তাঁতিদের পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা যে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি পেল, তা দেশের তাঁতি সমাজ ও নারীদের জন্য বিশেষ সম্মানের। তিনি এই অর্জন তাঁদের প্রতিই উৎসর্গ করেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে প্যারিসে ইউনেস্কো সদরদপ্তরে জমা দেওয়া আবেদনটি সব পর্যায়ের মূল্যায়নে সফল হয়। বাংলাদেশের দূতাবাস সম্পূর্ণ নিজস্ব দক্ষতায় নথিটি প্রস্তুত করে। কারিগরি দিক থেকে জটিল হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবটি ইতিবাচক পর্যালোচনা পায় এবং চূড়ান্ত সভায় অনুমোদিত হয়।
টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও। ২০২৩ সালে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে তাদের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করলে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনেস্কোর নতুন স্বীকৃতি সেই বিতর্কে স্পষ্টতা নিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের দাবি আরও শক্তিশালী করেছে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মের অধীনে স্বীকৃতি হওয়ায় এর বৈধতা প্রশ্নের অবকাশ নেই। তিনি মনে করেন, এই স্বীকৃতি দু’দেশের শাড়িপ্রেমী নারীদের কাছেও আনন্দের খবর, কারণ শাড়ি উভয় দেশের সংস্কৃতিরই অংশ।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে চার বছরের জন্য ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হয়। এরপর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় ‘ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’। এবার টাঙ্গাইল শাড়ির অন্তর্ভুক্তি এটিকে আরও সমৃদ্ধ করল।
ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের আগের পাঁচ ঐতিহ্য হলো বাউল গান, জামদানি বুনন শিল্প, মঙ্গল শোভাযাত্রা, শীতলপাটি বুনন শিল্প এবং ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র। এবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প যুক্ত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে উঠে এলো।