অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁর সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। স্পিকার পরে জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই আসনটি শূন্য হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।
স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা বা অন্য কোনো বিষয় উল্লেখ করেননি। তিনি লিখেছেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
অর্থাৎ, পদত্যাগপত্রে নিজের সিদ্ধান্তকে ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করলেও এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি তিনি। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্রে কারণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক নয় বলেও স্পিকার জানিয়েছেন।
তবে মিষ্টির পদত্যাগের আগে তাঁর বিরুদ্ধে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকেরা মিষ্টিকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘তদন্ত হোক’ এবং ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’ পরে স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যে ঘটনায় মিষ্টির নাম আসে
মিষ্টির পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে রয়েছে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হামলার সময় লুটপাট ও ভাঙচুরের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে তিনি এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সঙ্গে তাঁর নাম থাকলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।
সমিতির সঙ্গে মিষ্টির পুরোনো সম্পৃক্ততা
রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম সামনে আসায় সমিতিটির সঙ্গে মিষ্টির পুরোনো সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। সে সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনে সমিতির সভাপতি হিসেবে মিষ্টির স্বাক্ষর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বর্তমানে ওই সমিতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে মিষ্টি দাবি করেছেন।
সমিতিটির বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্যও সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নাম এসেছে। তাঁরা মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্তের ফল এখনো চূড়ান্ত নয়
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁকে নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও জানান তিনি।
এর ফলে মিষ্টির পদত্যাগ এবং রাড্ডা সেন্টারে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আলাদা দুটি বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যায়ে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনগত সত্যতা নির্ধারণ করবে চলমান তদন্ত।
পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে এসব আসন বণ্টন করা হয়।
এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৩০ এপ্রিল তাঁদের গেজেট প্রকাশিত হয় এবং ৩ মে তাঁরা শপথ নেন। এর প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
তাঁর পদত্যাগের ফলে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এখন শূন্য হয়েছে। সংবিধান ও সংসদীয় বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হবে এবং শূন্য আসন পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au