চব্বিশের আন্দোলনের সময় জুলাই-অগাস্টে এমন চিত্র প্রায়ই দেখা যায় রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ ডিসেম্বর- ভাইকে হত্যা করে ‘নিহত দেখানোর’ অভিযোগে জুলাই মাসে দায়ের করা মামলায় তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনও জীবিত। মামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেছেন। তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
চব্বিশের আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে। মামলার বাদী মোস্তফা কামাল তার ভাই সোলায়মান সেলিমকে (দুলাল) হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি ভাইকে ‘নিহত’ দেখিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও জমিজমা দখলের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তবে পুলিশ তদন্তে দেখতে পায়, যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল, তিনি এখনো জীবিত।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের এসআই ইনামুল ইসলাম জানান, বাদী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের অনুমতি পেলে তাঁর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।
মামলার আবেদনে সেলিমের পেশা ‘পরিবহনের হেলপার’ উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, তিনি ৩ অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে নিহত হয়েছেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়। প্রথমে ৪১ জনকে আসামি করা হয়, পরে তদন্তের শুরুতে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখানো হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সেলিম নিহত হননি। পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাই মোস্তফা মামলাটি করেছিলেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো দুই আসামির মধ্যে মিরাজ খান ও মোহাম্মদ উল্লাহ পাটোয়ারীর ক্ষেত্রেও অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোস্তফা কামাল তার ছোট ভাই সোলায়মান সেলিমকে হত্যা করে জমি দখল করতে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সব প্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিকতা যাচাই করার পর দেখা গেছে, নিহত দেখানো ব্যক্তি জীবিত এবং মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ ডিসেম্বর হবে। সেই দিন চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মিরাজ খানের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “আমার মক্কেল রাজনীতিতে জড়িত নন। তারপরও তাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় ও হয়রানি। রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করা উচিত।”
মামলার বাদী মোস্তফার মোবাইল ফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সুত্রঃ বিডিনিউজ