রবীন্দ্র ঋষিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা, কী হয়েছিল সেদিন?
ময়মনসিংহের ভালুকায় সেলুনে ঢুকে রবীন্দ্র ঋষি (৪৩) নামে এক নরসুন্দরকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জামিরদিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে এ ঘটনা…
নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে করা মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর সম্পদ বলতে রয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ জমি। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজের সব সম্পদের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ১১ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তিতর্ক চলাকালে বিচারক মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী তাঁর সম্পদের বিষয়ে কথা বলেন এবং তাঁর মাত্র ১২ শতাংশ জমি রয়েছে বলে জানান। এ সময় তিনি নিজের সব সম্পদের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আকুতি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান আপসের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বিচারক তা নাকচ করে দেন। বিচারক জানান, তাঁরা কখনো আপসের বিষয়ে কথা বলেননি। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে এ সময় আপসের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
শুনানিতে বিচারক ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কি না, তা জানতে চান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল আদালতকে জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছিল।
মামলাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই পরীক্ষার ফল নবজাতকের পিতৃত্বের বিষয়ে অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।
সিআইডির ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে। তাদের দাবি, মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ কারণে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নূরুল কবীর রুবেল বলেন, “রায়ের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি আজকে সম্পন্ন হয়েছে। ১১ নভেম্বর মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। আমি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। আমরা মনে করি, এই মামলাটি সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে সব কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা এই আসামি পাবে, আমরা এই আশা করছি।”
মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ১১ নভেম্বর নির্ধারিত দিনে বিচারক মামলার রায় ঘোষণা করবেন। তবে রায় ঘোষণার আগে আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করেই বিচারক রায় দেবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au