ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৭
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও…
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা অ্যাডমিরাল অ্যালভিন হোলসি দুই বছর আগেই অবসর নিয়েছেন। তার এই পদত্যাগ এমন সময় এল যখন ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বাড়ছে। কয়েক দিন আগেই ক্যারিবীয় সাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক হয়েছে এবং মাদকবাহী সন্দেহে নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টির বেশি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই হোলসিকে পদ ছাড়তে হয়েছে। দুই কর্মকর্তা বলেছেন, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা ও কার্যক্রমে আরও দৃঢ় উপস্থিতি চান হেগসেথ, কিন্তু সে বিষয়ে সাউদার্ন কমান্ডের কাজ তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
হোলসি চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি ডিসেম্বরেই অবসর নেবেন। তবে তিনি আগাম অবসরের কারণ এখনো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেননি। শুক্রবার সকালে মায়ামিতে সাউদার্ন কমান্ড সদর দপ্তরে তার বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি নিজের ৩৭ বছরের সামরিক জীবনের কথা তুলে ধরেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকা দেশগুলোর পাশে থাকার আহ্বান জানান।
কিছু কর্মকর্তা ধারণা করেছিলেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবাহী সন্দেহে নৌকায় সাম্প্রতিক হামলার বিরোধিতা করেছিলেন হোলসি। তবে মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেছেন, তার অবসরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এসব অপারেশনের কোনো সম্পর্ক নেই।
হোলসি দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তার ডেপুটি, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইভান পেটাসের কাছে। আপাতত তিনি সাউদার্ন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফ্রাঙ্ক ডোনোভানের নাম বিবেচনা করছেন, যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।
হোলসির আগাম অবসর বিরল হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এটি নতুন নয়। ২০০৮ সালে ইরান-সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল উইলিয়াম ফেলনও আগাম পদত্যাগ করেছিলেন।
হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই একাধিক সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা হঠাৎ পদ ছাড়ছেন। এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান সিকিউ ব্রাউন এবং মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম নারী প্রধান লিসা ফ্রাঞ্চেত্তির বিদায় বিশেষভাবে আলোচিত।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দিয়েছে। নতুন একটি নীতি-নথিতে উনিশ শতকের মনরো ডকট্রিন পুনরুজ্জীবনের কথা বলা হয়েছে, যা পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের টহল বাড়ানো এবং পানামার জঙ্গলে পুরনো সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুনরায় চালু করা সেই নীতি পরিবর্তনের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তিনি মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। মাদুরো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করতে চায়।
বুধবার মার্কিন কোস্টগার্ড প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আরও তেলবাহী জাহাজ আটকানোর প্রস্তুতি চলছে।
মাদকবাহী সন্দেহে নৌকা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিধির নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি যুদ্ধক্ষমতা হারায় বা জাহাজডুবির পর অসহায় অবস্থায় থাকে, তাহলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা নিষিদ্ধ। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের আইন নির্দেশিকাতেও এটিকে “স্পষ্টভাবে অবৈধ” বলে উল্লেখ করা আছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ অভিযানকে মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে এবং বলছে, এসব কার্গো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মানুষ হত্যা করছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au