ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৭
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- রাষ্ট্র পরিচালিত কিশোর সংশোধনাগারে শিশু নির্যাতনের একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় হাঙ্গেরিতে সরকারবিরোধী ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। সরকারের পদক্ষেপকে ‘অপর্যাপ্ত’ ও ‘নিষ্ক্রিয়’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানী বুদাপেস্টে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ।
বিক্ষোভের ডাক দেন বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগয়ার। তার নেতৃত্বাধীন দল টিসজা আগামী বসন্তে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্টারি নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে। রাজধানীর একটি কিশোর সংশোধনাগারে নতুন করে নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশের পরই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অনেককে হাতে শিশুদের খেলনা বহন করতে দেখা যায়, যা প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন পিটার ম্যাগয়ার নিজে। তিনি ‘চলুন, শিশুদের রক্ষা করি’ লেখা একটি ব্যানার বহন করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সজলো স্ট্রিট কিশোর সংশোধনাগারের তৎকালীন পরিচালক এক কিশোরের মাথায় লাথি মারছেন। এ ঘটনায় চলতি সপ্তাহে চারজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার দেশের সব সংশোধনাগারকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে পৃথক আরেক ঘটনায় সংশোধনাগারের তিন কর্মী গ্রেপ্তার হন, যাদের মধ্যে একজন সাবেক পরিচালকও রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একটি পতিতাবৃত্তির চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
২০১০ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক একের পর এক শিশু নির্যাতন কেলেঙ্কারিতে তার সরকার তীব্র চাপের মুখে পড়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী ডেভিড কোজাক বলেন, ‘ওদের কাছে আসল সমস্যা নির্যাতন নয়, সমস্যা হলো এসব ঘটনা প্রকাশ্যে চলে আসা। সাধারণত এমন ঘটনার পর কোনো সরকারের টিকে থাকা উচিত নয়।’
৭৩ বছর বয়সী পেনশনভোগী জুজসা সালাই বলেন, ‘সবচেয়ে অসহায় শিশুদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা আমাদের গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে।’
শুক্রবার পিটার ম্যাগয়ার ২০২১ সালের একটি আগে প্রকাশ না হওয়া সরকারি প্রতিবেদন জনসমক্ষে আনেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালিত পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা শিশুদের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও বেশি কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সরকার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওই প্রতিবেদনটি ২০২২ সালেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল তদন্তে সহায়তার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী ওরবান সর্বশেষ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, অল্পবয়সী অপরাধীরাও এ ধরনের আচরণের শিকার হতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট কাতালিন নোভাক এক দণ্ডিত শিশু নির্যাতনকারীর সহযোগীকে ক্ষমা করার অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হন। সেই কেলেঙ্কারি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে এবং এরপর থেকেই পিটার ম্যাগয়ারের রাজনৈতিক উত্থান আরও জোরালো হয়।
সূত্র: এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au