মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দেয়ালে আঁকা আলপনা সরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান সংশ্লিষ্টদের আলপনাগুলো মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পরপরই দেয়ালের আলপনা অপসারণের কাজ শুরু হয় এবং দেয়ালগুলো সাদা ও লাল রঙের কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি কোনো নেতিবাচক অর্থ বহন করে না। যারা আলপনা এঁকেছেন, তারাই জানেন কেন এঁকেছেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলপনাগুলো মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী আব্দুর রশিদ মানিক বলেন, শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতি প্রতিফলিত হচ্ছিল না বলে বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিতে আনা হয়েছিল। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে, এজন্য তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধারণ করে এমন শিল্পকর্ম সেখানে দেখা যাবে।
এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
সকাল ৮টায় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আয়োজন। এ সময় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ, সমাবেশ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে।
দুপুর ১২টায় বিয়াম আঞ্চলিক কেন্দ্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। বিকেল ৩টায় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সৈকতের লাবণী পয়েন্টে সার্ফিং ও জেটস্কি প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।
সন্ধ্যায় লাবণী পয়েন্টে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা। একই সঙ্গে রাতে উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শেষ হবে।