৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা আওয়ামী লীগের । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ জুন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। আগামী ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে স্মরণ, শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। দীর্ঘ ৭৭ বছরের পথচলায় ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের স্মৃতিকে সামনে রেখেই কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া আয়োজনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।
সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রা, গণসংযোগ, পোস্টার প্রচার, লিফলেট বিতরণ এবং দেয়াললিখনের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিন্ন প্রোফাইল ছবি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
২৩ জুন কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন এবং সভায় সভাপতিত্ব করবেন বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ২৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ধারাবাহিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ এবং মহিলা আওয়ামী লীগের পৃথক কর্মসূচি রয়েছে।
দলটি আরও জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনি বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্মদিন নয়, বরং বাংলাদেশের গণআন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক। সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এবারের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।