আমরা প্রেমে ছিলাম কি না,কেউ জানতে চায়নি: পরীমনি
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে চিত্রনায়িকা…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের খসড়া তালিকা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের একটি বড় অংশ অমুসলিম ভোটার। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই প্রবণতা বেশি চোখে পড়ছে বলে গবেষকদের দাবি।
নির্বাচন কমিশনের পরিভাষায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের বলা হচ্ছে ‘আনম্যাপড’ ভোটার। অর্থাৎ, এই ভোটারদের নিজের বা পরিবারের কোনো সদস্যের নাম ২০০২ সালের সর্বশেষ এসআইআর তালিকায় পাওয়া যায়নি। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের খোঁজ মেলেনি। তারা হয় মৃত, নয়তো ঠিকানা বদলিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধরা হচ্ছে। এর বাইরে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার ‘আনম্যাপড’ অবস্থায় রয়েছেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

কলকাতার কয়েকটি অঞ্চলে কত মুসলমান এবং কত হিন্দু ভোটারের নাম বাদ গেছে, তার বিশ্লেষণ
পুরো রাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ এখনও শেষ হয়নি। তবে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার খসড়া তালিকা খতিয়ে দেখে সমাজ গবেষণা সংস্থা ‘সবর ইনস্টিটিউট’-এর গবেষকেরা বলছেন, নাম বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশ হিন্দু। এমনকি কলকাতার মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও হিন্দু পদবীধারী ভোটারদের নামই তুলনামূলকভাবে বেশি বাদ গেছে।
গবেষকদের মতে, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং আসানসোলের মতো শহরাঞ্চলেই আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নাম বাদ পড়ার হার খুবই কম।
সবর ইনস্টিটিউটের গবেষক অসীন চক্রবর্তী ও সৌপ্তিক হালদার ইতিমধ্যেই কলকাতা শহর এবং পার্শ্ববর্তী ২১টি বিধানসভা কেন্দ্রের তালিকা বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ গেছে-মোট ভোটারের ১৪.৫৯ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্রে এই হার ১১.৯৯ শতাংশ। সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে মহেশতলা কেন্দ্রে, যেখানে হার ৫.৭৮ শতাংশ।
কলকাতার মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলির আলাদা বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা ধরা পড়েছে। গবেষকদের দাবি, বন্দর, পার্ক সার্কাস, রাজাবাজার ও কসবার মতো এলাকায় মুসলমান ভোটারের তুলনায় হিন্দু ভোটারের নামই বেশি আনম্যাপড তালিকায় রয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম মেটিয়াবুরুজ, যেখানে বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে মুসলমানদের হার বেশি।
গবেষক অসীন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কলকাতায় আনম্যাপড ভোটারদের মধ্যে একটি বড় অংশ অবাঙালি হিন্দু। অনুমান করা যায়, এরা অন্য রাজ্য থেকে কাজের সূত্রে এসে এখানে বসবাস করছেন, যাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না।”
মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা মুর্শিদাবাদ ও মালদায় আনম্যাপড ভোটারের হার অত্যন্ত কম। ডোমকল ও সুজাপুরের মতো কেন্দ্রে এই হার এক শতাংশেরও নিচে বা কাছাকাছি। কিন্তু নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আনম্যাপড ভোটারের হার রাজ্যের গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
অর্থনীতিবিদ ও নাগরিকত্ব গবেষক প্রসেনজিৎ বসু মনে করছেন, এই তথ্য বিজেপির দীর্ঘদিনের সেই দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যেখানে বলা হয় পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছেন। তাঁর মতে, “এসআইআরের প্রাথমিক তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, মুসলমান অধ্যুষিত জেলাগুলিতে খুব কম সংখ্যক ভোটার আনম্যাপড। এতে অনুপ্রবেশের আখ্যান প্রশ্নের মুখে পড়ছে।”

এসআইআর শুরু হওয়ার পরে অনেক বাংলাদেশি, যারা অবৈধভাবে ভারতে থাকতেন, তারা নিজেদের দেশে ফিরে গেছেন , ছবি; বিবিসি
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এসআইআরের পরবর্তী ধাপে নথি যাচাই শুরু হলে প্রকৃতপক্ষে কতজন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, তার ওপরই চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে। আপাতত খসড়া তালিকার তথ্য রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au