ইরানের বাসিজ ফোর্স প্রধানকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে…
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর- দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে চাঙা করবে না, বরং সহিংসতা ও অনিশ্চয়তায় থাকা রাজনীতিতে কিছুটা স্থিতি ফেরানোর সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে জনগণের সঙ্গে তার সরাসরি সংযোগ এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
বৃহস্পতিবার ঢাকার উপকণ্ঠে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের জন্য তাঁর একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্রের এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন হিসাব–নিকাশ।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “আমরা শান্তি চাই। এই দেশে পাহাড় ও সমতলের মানুষ আছে—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে।” তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার বার্তা হিসেবে দেখছেন।
তারেক রহমানের ফেরা এমন এক সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশ তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুবনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিসংযোগ হয় শীর্ষ দুটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ে, এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তারেক রহমানের উপস্থিতি ও তার দেওয়া বক্তব্য পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, “তার আগমন নির্বাচনের অনিশ্চয়তা কমাতে পারে এবং দেশ যে স্থিতিশীলতা খুঁজছে, তার দিকে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
তবে তিনি মনে করেন, প্রশ্ন এখন নেতৃত্বের। তারেক রহমানকে চরমপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে, জনগণের উদ্বেগ বোঝার সক্ষমতা দেখাতে হবে এবং দলীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুবাশশার হাসান বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে যে জনসমাগম দেখা গেছে, তা বিএনপির বাইরের মানুষের মাঝেও আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও সংস্কার প্রশ্নে হতাশ অনেক মানুষ বিএনপিকে একটি স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের পথচলা সহজ ছিল না। ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর হত্যা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় তিনি দণ্ডিত হন। তবে দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার বা স্থগিত হওয়ায় দেশে ফেরার পথ খুলে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও তারেক রহমানের ভূমিকা নজরে থাকবে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি–ভারত সম্পর্ক শীতল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দলটি তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ছিন্ন করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তারেক রহমান কট্টর ভারতবিরোধী অবস্থান নেবেন না।
সাম্প্রতিক জরিপে বিএনপি ও জামায়াত এগিয়ে থাকলেও বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। এই ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারলেই বিএনপি বড় সাফল্যের পথে এগোতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অধ্যাপক শাহানের ভাষায়, “তারেক রহমান যদি জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন, তাদের আশ্বস্ত করেন এবং সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি স্পষ্ট পথ দেখাতে পারেন, তাহলে নির্বাচনে বিএনপির জন্য ভূমিধস জয়ও অসম্ভব নয়।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au