ইরানের বাসিজ ফোর্স প্রধানকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে নগদ হার (ক্যাশ রেট) ৪.১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৩.৮৫ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির পর মার্চ মাসেও একই হারে সুদ বৃদ্ধি করায় টানা দুই মাসে এই পদক্ষেপ নিল ব্যাংকটি।
মঙ্গলবার ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত আগে থেকেই অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল। গত সপ্তাহেই আরবিএ’র ডেপুটি গভর্নর অ্যান্ড্রু হাউজার উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে “বিষাক্ত” বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাংক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার এই মন্তব্যকে বাজার বিশ্লেষকেরা সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবেই দেখেছিলেন। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বড় ব্যাংক এএনজেড আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তাদের স্থায়ী বন্ধকী সুদের হারও বাড়িয়ে দেয়।
তবে সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি একেবারে একমত হয়ে হয়নি। আরবিএ বোর্ডের ৯ সদস্যের মধ্যে ৫ জন সুদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন, আর ৪ জন আগের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন। অর্থাৎ, অল্প ব্যবধানেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা পরিস্থিতির জটিলতাকেই নির্দেশ করে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় প্রভাব ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে তা দ্রুত বেড়ে গত সপ্তাহে ১১৬ ডলারে পৌঁছে যায়। বর্তমানে তা প্রায় ১০৩ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
অস্ট্রেলিয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পেট্রোলের দাম দ্রুত বেড়েছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে আগাম জ্বালানি কেনার প্রবণতাও দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী প্রান্তিকে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের ওপরে উঠে যেতে পারে।
সরকারি ট্রেজারি বিভাগও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, যদি তিন মাস ধরে তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি অন্তত ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়বে। আর যদি তা ১২০ ডলারে পৌঁছে, তাহলে মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৩.৮ শতাংশ, যা আরবিএ ২.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায়।
তবে জ্বালানির দামের মতো সরবরাহজনিত সমস্যার মোকাবিলায় সুদের হার বাড়ানো কতটা কার্যকর—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সুদের হার বাড়িয়ে সরাসরি জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব নয়। কারণ এটি মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের ফল। তবে অন্য একটি মত হলো, মূল্যস্ফীতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চাহিদা কমানোর মাধ্যমে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সুদ বাড়ানোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হাতিয়ার।
আরবিএ নিজেও স্বীকার করেছে যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই চাপ স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমবাজার কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় এবং উৎপাদন সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও উসকে উঠেছে বলে ব্যাংকটির পর্যবেক্ষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল। একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানও ধরে রাখতে হবে। সুদের হার বাড়ালে মানুষের ব্যয় কমে, ফলে মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মন্থর হয়ে যেতে পারে।
আরবিএ গভর্নর মিশেল বুলক জানিয়েছেন, সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জ্বালানির দাম একমাত্র কারণ নয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। তিনি বলেন, “আমরা চাই মূল্যস্ফীতি কমাতে, কিন্তু একই সঙ্গে বেকারত্ব যেন অযথা না বাড়ে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মন্দা চাই না।”
তিনি আরও জানান, বোর্ডের মধ্যে সুদের হার মে মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এতে আরও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ পাওয়া যেত। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, সুদ বাড়ানোর সময় এখনই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দামের ধাক্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। কারণ সুদের হার বাড়িয়ে তেলের সরবরাহ বাড়ানো যায় না। বরং এটি মানুষের ব্যয় কমিয়ে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস করে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি। বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা, আগামী দিনগুলোতে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au