ইনজুরি, লিগ স্থগিত আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ২৭ ডিসেম্বর-বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের এক সময়ের গর্ব শাহিন আলম আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। নিউজ টোয়েন্টিফোরে তার অর্থসংকটের খবর প্রচারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জাতীয় পর্যায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা এই ক্রিকেটারের বাড়ি কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায়।
ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টানা দুই বছর ইনজুরিতে ভুগেছেন শাহিন আলম। দীর্ঘ পুনর্বাসন আর চিকিৎসার পর গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। তবে প্রত্যাশিত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। চলতি মৌসুমে ফাস্ট ডিভিশন লিগে খেলার কথা থাকলেও ক্লাবগুলোর বিদ্রোহ ও সাংগঠনিক জটিলতায় লিগ স্থগিত হয়ে যায়।
লিগ না হওয়ায় কার্যত কোনো আয়ের পথ নেই এই ক্রিকেটারের। দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থাকায় সঞ্চয়ও শেষের পথে। পরিবারের দায়িত্ব, চিকিৎসা খরচ এবং নিত্যদিনের ব্যয়—সব মিলিয়ে চরম অর্থসংকটে দিন কাটাচ্ছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য।
শাহিন আলম একসময় ছিলেন যুব দলের পেস আক্রমণের অন্যতম সম্ভাবনা। যুব বিশ্বকাপে জয়ী দলের সাথেও ছিলেন। কিন্তু ইনজুরি আর কাঠামোগত সংকটে সেই সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার আজ অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
দেশের ক্রিকেট কাঠামোয় লিগনির্ভর অনেক খেলোয়াড়ের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে। শাহিন আলমের মতো ক্রিকেটারদের বর্তমান পরিস্থিতি আবারও প্রশ্ন তুলছে—ক্যারিয়ার শেষ বা ইনজুরিতে পড়া খেলোয়াড়দের জন্য কি কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে?
যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হয়েও শাহিন আলম যদি এমন দুঃসময় পার করেন, তবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বাস্তব চিত্র বুঝতে খুব বেশি দূর তাকাতে হয় না। এখন দেখার বিষয়, ক্রিকেট বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট মহল এই ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়ায় কি না।