ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা
লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা ভ্যালেন্সিয়াকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে হ্যান্সি ফ্লিকের…
মেলবোর্ন, ২৭ ডিসেম্বর- রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিহত ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল, যিনি এলাকায় ‘সন্ত্রাসী সম্রাট’ নামে পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। ঘটনাটি ঘিরে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে, যার একটি হত্যা মামলা।
বুধবার গভীর রাতে পাংশার হোসেনডাঙা গ্রামে এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে অমৃত মণ্ডল ও তার সহযোগী সেলিম। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার মারধরে অমৃত মণ্ডলের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘সম্রাট’ নামটি দীর্ঘদিন ধরেই পাংশা এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলত। পুলিশের দাবি, সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় অমৃত মণ্ডল এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা ছিল।

এই ঘটনায় রাজবাড়ীর পাংশা মডেল থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে
তবে নিহতের পরিবার বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে। অমৃত মণ্ডলের ভাই অমিয় মণ্ডল জানিয়েছেন, তার ভাই প্রায় ১২ থেকে ১৪ বছর আগে ভারতে চলে গিয়েছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ‘সম্রাট’ নামের সন্ত্রাসীর সঙ্গে অমৃত মণ্ডলের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়েও তারা নিশ্চিত নন বলে দাবি করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে ছয় থেকে সাতজনের একটি সশস্ত্র দল কৃষক শহীদ শেখের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে এবং তার ছেলে ও ভাতিজাকে মারধর করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় গ্রামবাসী সম্রাট ও সেলিমকে ধরে ফেলেন।
রাত সোয়া বারোটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসক অমৃত মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সেলিম চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের দাবি, উদ্ধারকালে তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। শহীদ শেখের পরিবার চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছে। নিহতের ভাই অমিয় মণ্ডলের স্বাক্ষরে একটি হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু বিদেশি গণমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক নয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতির ফল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকার আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতাকে সমর্থন করে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au