আমরা প্রেমে ছিলাম কি না,কেউ জানতে চায়নি: পরীমনি
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে চিত্রনায়িকা…
মেলবোর্ন, ২৭ ডিসেম্বর- ভারতবিরোধী মন্তব্য ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা শিলিগুড়ি, মালদহ ও কোচবিহারে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোটেল পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার হোটেলগুলোতে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হোটেল মালিকদের সংগঠনগুলো।
হোটেল মালিকদের একাংশের দাবি, বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদান কার্যত বন্ধ থাকায় তাদের হোটেলে থাকতে দিলে আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তবে বড় অংশের হোটেল মালিক বলছেন, এটি মূলত প্রতিবাদী অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মালদহে বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ হওয়ার খবর সামনে আসে। এত দিন মেডিক্যাল ও স্টুডেন্ট ভিসায় আসা বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ মালদহের হোটেলগুলোতে থাকতেন। কিন্তু ‘মালদহ হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী জানান, আপাতত জেলার কোনো হোটেলেই বাংলাদেশি অতিথিদের জায়গা দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমরাও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
একই সুর কোচবিহারেও। ‘কোচবিহার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছে, ভারত সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখায় তারা সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেল বুকিং দেবে না। সংগঠনের সভাপতি ভূষণ সিংহ বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে ভারতবিরোধী মন্তব্য ও হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠছে, তার প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত।
শিলিগুড়িতে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। শহরের বহু হোটেলের দেওয়ালে টাঙানো হয়েছে ‘বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা নোটিস। ‘শিলিগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জানায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরেই বাংলাদেশিদের হোটেলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তখন চিকিৎসা বা পড়াশোনার কারণে আসা ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হতো। এখন সেই ছাড়ও তুলে নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সহ-সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, ভারত সরকার যখন বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে, তখন আমরাও সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিলিগুড়িতে সংগঠনের আওতায় থাকা প্রায় ১৮০টি হোটেলেই এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এক হোটেল মালিক সৌমেন সাহা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর এটুকুই আমাদের সাধ্যের মধ্যে।
হোটেল মালিকদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলটির বক্তব্য, অবিলম্বে সারা রাজ্যেই একই নীতি নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, হোটেল মালিকেরা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৈদেশিক নীতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়, এ নিয়ে কেন্দ্রের কোনো নির্দেশ এলে রাজ্য সরকার তা মেনে চলবে। জেলা তৃণমূল নেতাদের মতে, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় শীর্ষ নেতৃত্বই এ নিয়ে অবস্থান নেবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au