দ্বিতীয়বার সুদের হার বাড়াল অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুদের হার ০.২৫ শতাংশ…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- নেপালের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের আগে দুই জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার জোট দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন নামে বেশি পরিচিত, জাতীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা রাষ্ট্রীয় স্বাধীন দল আরএসপিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সাবেক টিভি উপস্থাপক রবি লামিছানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা পুরনো দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রবিবার বালেন আরএসপিতে যোগ দেন। সোমবার দলীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জোট চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৫ মার্চের সংসদীয় নির্বাচনে আরএসপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ৩৫ বছর বয়সী বালেন হবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। আর ৪৮ বছর বয়সী রবি লামিছানে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
এই দুই নেতা গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে হওয়া তরুণ নেতৃত্বাধীন ‘জেন জি’ বিক্ষোভ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। দুর্নীতিবিরোধী ওই আন্দোলনে ৭৭ জন নিহত হন। ব্যাপক সহিংসতার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি পদত্যাগে বাধ্য হন। বিক্ষোভ নেপালের রাজনীতিতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় শুরু করে।
বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, বালেন ও তার তরুণ সমর্থকদের আরএসপির সঙ্গে যুক্ত করা দলটির জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তার মতে, তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এই জোটের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার নেপালে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর নতুন করে প্রায় ১০ লাখ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই তরুণ। এই ভোটারদের সমর্থন পেতে বালেন-লামিছানে জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ চলাকালে বালেন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন এবং আন্দোলনে যুক্ত তরুণদের অনানুষ্ঠানিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন, যে সরকার নির্বাচনের তদারকি করবে। তবে তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বালেন সরাসরি মাঠে খুব কমই উপস্থিত ছিলেন এবং মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।
গত তিন দশক ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে কে.পি. শর্মা অলির কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এবং মধ্যপন্থী নেপালি কংগ্রেস। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে এই দুই দলই সবচেয়ে বড় চাপে পড়তে পারে নতুন এই জোটের কারণে।
রবি লামিছানে ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে আরএসপি গঠন করেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও টিভি উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয়তার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত পরিচিতি পান। তবে তিনি বর্তমানে একটি মামলায় জামিনে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সমবায়গুলোর মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের অপব্যবহারের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
নেপালি কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মহত বলেন, বালেন ও লামিছানে উভয়েই বিতর্কিত নেতা। তার দাবি, এই জোট নির্বাচনে খুব বড় প্রভাব ফেলতে পারবে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের সক্রিয়তা ও জনমনে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au