হামলার কয়েক মিনিট আগে বাইরে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন মোজতবা খামেনি: দ্য টেলিগ্রাফ
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- দেশে সাইবার অপরাধের জালে ক্রমেই বাড়ছে নারীদের ভুক্তভোগীর সংখ্যা। গত এক বছরে ১৩ হাজারেরও বেশি নারী সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব ঘটনার মধ্যে ব্ল্যাকমেইল, ডক্সিং, আইডি হ্যাকসহ নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ উঠে এসেছে।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৮১৩ নারী অভিযোগ জানিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮০টি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৬৩টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩১৭টি এখনও মুলতবি রয়েছে। পাশাপাশি ১২ হাজার ৬৩২টি অভিযোগ টেলিফোনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
সাইবার অপরাধের একটি সাধারণ কৌশল হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি সংগ্রহ করা। এমনই এক ঘটনায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারী প্রতারণার শিকার হন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিও কলে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় বাংলাদেশ পুলিশ-এর সহায়তায় পরিচালিত সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন ইউনিটের মাধ্যমে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ১৬৫ নারী সাইবার সহায়তা চেয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৪৫ শতাংশ নারী ডক্সিংয়ের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ১৮ শতাংশ ব্ল্যাকমেইলিং, ১৭ শতাংশ আইডি হ্যাক, ৯ শতাংশ সাইবার বুলিং, ৬ শতাংশ ইমপারসোনেশনসহ অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি আরেক ভুক্তভোগী, ‘কণা’ (ছদ্মনাম), অভিযোগ করেন যে তার ব্যক্তিগত ছবি গোপনে ধারণ করে একটি ভুয়া আইডি থেকে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও আপত্তিকর ছবি বা অর্থ দাবি করে এবং তা না দিলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে পরিবারকে জানিয়ে তিনি আইনি সহায়তা নেন।
সাইবার অপরাধের এ ধরনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি ব্যবহারে সতর্কতা না থাকলে এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকি বাড়ে, যা ভুক্তভোগীর সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, নারীদের সাইবার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরিচিতদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা এবং যেকোনো হয়রানির ঘটনায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়াই হতে পারে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের কার্যকর উপায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au