মেলবোর্ন ৩১ ডিসেম্বর- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে ড্রোন হামলার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের ভাষ্য, এ ধরনের হামলার পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং যুদ্ধ শেষ করার আলোচনাকে প্রভাবিত করতেই মস্কো পরিকল্পিতভাবে ভুয়া দাবি ছড়াচ্ছে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযোগ তোলার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও রাশিয়া এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রমাণ না দিতে পারাই দেখাচ্ছে যে এমন কোনো হামলাই ঘটেনি।
এর আগে সোমবার মস্কো দাবি করে, মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মাঝামাঝি নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত পুতিনের একটি নিরিবিলি বাসভবনের দিকে ইউক্রেন ড্রোন পাঠিয়েছে। ক্রেমলিন মঙ্গলবার এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ এবং ‘প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত হামলা’ বলে আখ্যা দেয়। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করে নেয়, হামলার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারছে না। তাদের যুক্তি, সব ড্রোন আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
ক্রেমলিন আরও জানায়, এই ঘটনার জবাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা কীভাবে, কখন এবং কোথায় চালানো হবে, সে সিদ্ধান্ত রুশ সেনাবাহিনী নিয়েছে। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে দেয়, যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় মস্কো এখন আরও কঠোর অবস্থান নেবে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগের দিন কিয়েভের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেন। তার ভাষায়, রাশিয়া রাজধানীতে নতুন করে হামলার পরিবেশ তৈরি করছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন প্রায় চার বছর পেরিয়েছে। এই সময়ে রুশ বাহিনী নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
মস্কোর অভিযোগের পর ইউরোপের একাধিক নেতা জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানান। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস বলেন, শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে সব পক্ষের স্বচ্ছতা ও সততা জরুরি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি সোমবার পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন, এই ঘটনাকে রুশ অপপ্রচার হিসেবে দেখার বিষয়ে ইউক্রেনের অবস্থান মেনে নিলেও কিয়েভের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, পুতিন নিজেই তাকে জানিয়েছেন যে তার ওপর হামলা হয়েছে। তার মতে, আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো রাষ্ট্রনেতার বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা আলাদা মাত্রার ঘটনা।
তবে হামলার সময় পুতিন কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে রাশিয়া কিছু জানায়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও ব্যক্তিগত জীবন দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর গোপনীয়তার আড়ালে রাখা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং শান্তি আলোচনার পথ আরও জটিল করে তুলছে। ইউক্রেনের দাবি, প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ কেবল যুদ্ধের বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল।
সুত্রঃ এএফপি